আমার দেশ অনলাইন

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, কুমিল্লার উপপরিচালক মেহেদী মাহমুদ আকন্দের কাছে ১১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীসহ অন্য সদস্যরা।
প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে এ দুর্ঘটনার পেছনে রেলওয়ে বিভাগের কর্মীদের কয়েক ঘরে দায়িত্ব অবহেলার তথ্য উঠে এসেছে। এজন্য ছয়টি কারণ শনাক্ত করেছে তদন্ত কর্মকর্তারা। এতে দুর্ঘটনার নেপথ্যের কারণ হিসেবে ঘটনাস্থল পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ের চার গেটম্যান ছাড়াও কুমিল্লা সদর দক্ষিণের বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যান, লালমাই রেলস্টেশনের সহকারী মাস্টার, ট্রেনের দুজন চালক বা লোকোমাস্টার, বাসের চালকের অদক্ষতা ও পরিবহনের সঠিক সিদ্ধান্ত না থাকা এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্মাণকাজে অবহেলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এডিএম মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, তদন্তে অন্তত ছয়টি বিষয়ে ব্যত্যয় উঠে এসেছে এবং বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভাগ দায়ী বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনা রোধে আটটি সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে তদন্তে গোপনীয়তার স্বার্থে প্রতিবেদনের সব তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
পদুয়ার বাজার রেলগেটের দুর্ঘটনার দিন মেহেদী হাসান ও হেলাল নামের দুই গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তারা সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। তারা এক হাজার টাকার বিনিময়ে কাউসার ও নাজমুল নামে দুই গেটম্যানকে দায়িত্ব দেয়, যারা সেখানে গেট নামাতে পারেনি। কারণ তারাও অনুপস্থিত ছিল। এ বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানত না।
এছাড়া রেলের নিয়ম অনুযায়ী আগের বিজয়পুর রেলগেটের মশিউর রহমান ও বাবুল হোসেন নামে দুই গেটম্যান পদুয়ার বাজার স্টেশনে ফোনে ট্রেন আসার বিষয়টি জানানোর কথা থাকলেও তারা সেটি করেননি। বাবুল ও মশিউর পদুয়ার বাজারে কল দেওয়ার বিষয়টি দাবি করলেও তদন্তে কললিস্ট থেকে প্রমাণিত হয়, তারা কল করেননি। এতে তাদের দুজনেরও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। যে কারণে এ ছয় গেটম্যান তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
ট্রেন যখন আপ (ঢাকামুখী)-এ থাকে তখন আগের স্টেশন মাস্টার পরবর্তী ক্রসিংগুলোতে কল করে সতর্ক করার কথা থাকলেও তিনি পদুয়ার বাজারে কল করেননি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ কথা তিনি লিখিতভাবে তদন্ত কমিটির কাছে জানিয়েছেন। সে সময় লালমাই স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. বশিরুল্লাহ। তদন্ত কমিটি তার দায়িত্বে অবহেলারও প্রমাণ পেয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত ঢাকা মেইল ট্রেনের দুই লোকোমাস্টার মো. হানিফ ও নজরুল ইসলাম লেভেলক্রসিং পারাপারের সবুজ সংকেত বা ফোনকল পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লালমাই স্টেশনমাস্টার কল না করার কারণে বিজয়পুর লেভেলক্রসিংয়ের গেটম্যান হয়তো তাদের কল করেননি কিংবা টর্চ বা পতাকার মাধ্যমে সবুজ সংকেত দেননি। যখন তারা কল বা সবুজ সংকেত পাননি, তখন তারা ট্রেনটি গতি কমিয়ে আনার কথা রয়েছে, কিন্তু তারা সেটি করেননি।