আমার দেশ অনলাইন

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৪৩ মিলিয়ন শিশু তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন। আর ক্ষুধাজনিত কারণে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে ৩০ লাখেরও বেশি শিশু, যেখানে খাবারের অভাবে এত বিপুলসংখ্যক শিশু মৃত্যুবরণ করছে সেখানে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত খাবারের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ খাবার নষ্ট হচ্ছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও ৩০ মার্চ আন্তর্জাতিক 'জিরো ওয়েস্ট ডে' বা অপচয়মুক্ত দিবস পালন করছে জাতিসংঘ। এবারের মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে 'খাদ্য অপচয়' রোধ করা। আর এই কাজে সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায় ও সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে।
খাদ্য সংকট বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, নতুন এই জরিপ উঠে এসেছে তীব্র খাদ্য সংকট কীভাবে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং দেশীয় পর্যায়ে খাদ্য ও পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ২০২৪ সালে ৫৩টি দেশ এবং অঞ্চলের ২৯৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন মাত্রার তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছিল, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭মিলিয়ন বেশি।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখন দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গাজা ভূখণ্ড। এখানে দুর্ভিক্ষের শিকার ছয় লাখ ৪০ হাজার ৬০০ মানুষ। এর পরের তালিকায় রয়েছে সুদান, যেখানে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সংখ্যা ছয় লাখ ৩৭ হাজার ২০০, দক্ষিণ সুদানে এই সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫০০, ইয়েমেনে ৪১ হাজার ২০০, হাইতিতে ৮ হাজার ৪০০ এবং মালিতে ২ হাজার ৬০০।
এই সংকটে সবচেয়ে ঝুঁঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে শিশুরা। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৩ কোটি শিশু তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন এবং পাঁচ বছরের কমবয়সি শিশুদের মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশই ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে মারা যাচ্ছে।
যেখানে এত এত শিশু মারা যাচ্ছে ক্ষুধায় সেখানে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত খাবারের এক-তৃতীয়াংশ। খাদ্য অপচয়ের সর্বোচ্চ শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটির ২০২৪ সালের বার্ষিক খাদ্য অপচয় ১০৮ মিলিয়ন টন ছাড়িয়েছে। প্রতি বছর মাথাপিছু প্রায় ৭৬ কিলোগ্রাম খাদ্য অপচয় করে চীনের নাগরিকরা। ভারতও যথেষ্ট খাদ্য অপচয় করে। প্রতি বছর তারা ৭৮ মিলিয়ন টনেরও বেশি খাদ্য অপচয় করে, যা মাথাপিছু প্রায় ৫৪ কিলোগ্রাম। পাকিস্তানে বার্ষিক খাদ্য অপচয় প্রায় ৩১ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা মাথাপিছু ১২২ কিলোগ্রামের সমান; যা চীন ও ভারতের সম্মিলিত মাথাপিছু অপচয়ের প্রায় সমান অপচয় করছে পাকিয়ানিরা। এছাড়া খাদ্য অপচয়ের তালিকায় রয়েছে নাইজেরিয়া, ব্রাজিল, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও মেক্সিকো। তবে বেশ কয়েকটি দেশে খাদ্য অপচয়ের অন্যতম কারণ প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি, অপর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও অদক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা এবং সীমিত বাজারসুবিধা। বিশেষজ্ঞরাও বিতরণ, সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষতি এবং ভোক্তাদের দ্বারা ভোজ্য খাবার ফেলে অদক্ষ দেওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।