জ্বালানি সংকটে বিভিন্ন স্থানে বিপাকে বোরো চাষিরা

আমার দেশ অনলাইন

জ্বালানি সংকটে বিভিন্ন স্থানে বিপাকে বোরো চাষিরা

জ্বালানি সংকটের ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। প্রয়োজনীয় সেচ দিতে না পারায় আবাদি বোরো ধান বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি জানান,
বিশ্বের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের ফলে বিপাকে পড়েছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বোরো ধান চাষিরা। বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে ডিজেলের অভাবে ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষক। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় এখন শূধু বৃষ্টির পানি একমাত্র ভরসা কৃষকদের। আর কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিও হয়েছে। তবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে তীব্র শিলাবৃষ্টিতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে শ্রীবরদীর মানুষের জীবন-জীবিকা বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রধান খাদ্যশস্য বোরো ধানের। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায়ও রয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রীবরদীতে পাম্প না থাকার পাশাপাশি ডিজেল ব্যবসায়ীদেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সংকট নেই। এ ব্যাপারে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি। ডিজেল সংকট বা বেশি দামে বিক্রির কোনো অভিযোগও আমাদের কাছে আসেনি। এছাড়া বৃষ্টি হওয়ায় সেচের চাহিদা তথা ডিজেলের চাহিদা কিছুটা কমেছে। অল্প শিলাবৃষ্টি হলেও ফসলের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি জানান,
রংপুরের কাউনিয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক, সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা। মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে স্টেশনের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, তেলের চাহিদা পূরণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, 'আমরা নিজেরাই পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না।'

স্থানীয়দের অভিযোগ,
উপজেলার শ্রীবরদীতে জ্বালানী সংকটে সেচ দিতে না পারায়
ক্ষতিগ্রস্থ আবাদি বোরো ধান
আমার দেশ
পেট্রোল ও অকটেন সংকট চরমে পৌছালেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে প্রতিলিটার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় তেল বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, 'যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান,
তীব্র সেচ পানির সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষক। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হুমকির মুখে ইরি-বোরো চাষাবাদ। একদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্বর নিচে নেমে গেছে অন্যদিকে ডিজেল সংকটে বিপাকে কৃষক। একদিকে ডিজেল সংকট অন্যদিকে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তালা উপজেলার ১২ ইউনিয়নের কৃষকরা ধান চাষ নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ইরি-বোরো চামি ইবাদুল সরদার বলেন, 'আমার সেচ পাম্পে পানি ওঠছে না। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাটির ১৫ হাত নিচে পাম্প বসিয়ে সেচের পানি উত্তোলন করছি।'

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, 'চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকের এ সংকট নিরসনে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
জানান, নেছারাবাদে ডিজেল সংকটের কারণে ইরি-বোরো ধান চাষে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ডিজেল না পাওয়ায় ধানক্ষেতে পানি সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। ফলে পানির অভাবে ফেটে যাচ্ছে জমি, নষ্ট হচ্ছে সবুজ ধানের চারা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল মজুতদাররা বাজারে সরবরাহ সীমিত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। কর্মকর্তাদের নেই কোনো নজরদারি।

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান,
ময়মনসিংহের ফুলপুরে চলছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। ফিলিং স্টেশনগুলোতে অধিকাংশ সময়ই তেল না থাকার সাইনবোর্ড ঝুলানো থাকে। মাঝে মাঝে রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে জ্বালানি তেল। বর্তমানে বোরো আবাদের মৌসুম চলছে। জ্বালানি তেলের এ সংকটকালে বোরো আবাদে সেচকাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু জানান, এ বছর ফুলপুর উপজেলায় ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান,
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে তেলের জন্য হাহাকার অবস্থা চলছে। উপজেলার কোথাও তেল মিলছে না। যদি পাওয়া যায়, তাও চড়া মূল্য লিটারপ্রতি দাম নিচ্ছে দুই-আড়াইশ টাকা। আবার অনেক সময় বেশি দাম দিয়েও তেল পাওয়া যায় না। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঐ পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, আনুমানিক ৫০০ মোটরসাইকেলের সিরিয়াল নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও টহলরত সেনাসদস্যরা গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট আছে কি না যাচাই করে প্রতি গাড়িতে ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছে।