মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং

আমার দেশ অনলাইন

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তার বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করা হয়। একই সঙ্গে আরো দুজনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিন আং হ্রাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়া প্রায় নিশ্চিত, কারণ অন্য প্রার্থীদের সম্ভাবনা খুবই কম।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে সেনাসমর্থিত দলগুলো সহজেই জয়লাভকরে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিন অং হ্লাইং দেশ পরিচালনা করে আসছেন। ওই অভ্যুত্থানে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রায় পাঁচ বছরের কঠোর শাসনের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি নির্বাচন দেন। এই নির্বাচনে সবকিছুতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। এমনকি ভোটের বিরোধিতা বা সমালোচনাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মিয়ানমারের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি'র বিশ্লেষক নাইং মিন খাস্ট বলেন, এই রাজনৈতিক কৌশল থেকে স্পষ্ট যে মিন অং হ্লাইং তার ক্ষমতা ধরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার মতে, বৈধতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, সোমবার সকালে নিম্নকক্ষের সাংসদ কিয়াও হতেই মিন অং হ্লাইংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করেন। নিম্নকক্ষে কিয়াও সোয়েকেও একই পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিয়াও সোয়ে সামরিক জান্তা-সমর্থিত ন্যাশনাল ইউনিটি পাটির সদস্য, যা ১৯৮৮ সালে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা গঠন করেন। সে সময় সামরিক শাসক নে উইনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়।

উচ্চকক্ষ থেকেও আরো দুজনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করা হয়েছে। তাদের একজন উত্তর কাচিন রাজ্যের সাবেক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা তু জার, যিনি বর্তমানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জোটবদ্ধ। অন্যজন কারেন রাজ্যের আঞ্চলিক সাংসদ নান নিনি আয়ে। তিনিও সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) সদস্য।

গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, নতুন সরকার মূলত সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করবে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মিয়ানমার সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে।