ভিসা প্রতারণা মামলার আসামি ও তার সহযোগীরা থানায় এসে বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলামকে ক্রেস্ট ও উপহার দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ছবিতে দেখা যায়—ভিসা প্রতারণা মামলায় কারাভোগ করা আসামি বেনজির, অন্য এক আসামি ও এক মাদক কারবারি থানার বিদায়ী ওসির হাতে ক্রেস্ট ও উপহারের ব্যাগ তুলে দিচ্ছেন। এ দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের ক্ষোভ ছড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া আসে-
শরিফুজ্জামান শরিফ লিখেছেন, ‘যে সরিষা ভূত তাড়াবে, সেই সরিষায়ই ভূত।’
আব্দুল মালেক মন্তব্য করেছেন, ‘ওসি সাহেব লেবাসধারী।’
মাসুম বিল্লাহ লিখেছেন, ‘অহা! নতুন বাংলাদেশ। প্রশাসনের মদদেই দেশে সব অপরাধ চলছে—এটাই প্রমাণ।’
ওবায়দুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘যেমন ছিলেন, বিদায় বেলায় প্রকাশ করলেন তার আসল রূপ।’
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর ভোবানন্দের কুটি গ্রামের জাহেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ভিসা প্রতারণার শিকার হয়ে ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা হারান। তার অভিযোগের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা হলে আসামি বেনজিরকে পুলিশ গত ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। ১৩ দিন পর জামিনে বের হয়ে তিনি জানতে পারেন ওসি আশরাফুল ইসলাম বদলি হচ্ছেন। এরপর তিনি সহযোগীদের নিয়ে থানায় গিয়ে বিদায়ী ওসিকে ক্রেস্ট ও উপহার দেন।
সমালোচনার মুখে বেনজির তার ফেসবুক আইডি ‘এমডি বেনজির খান রাজ’-এ লেখেন, ‘আমি বেনজির আসলেই একটা ব্র্যান্ড, জেলে না গেলে বুঝতাম না।’
ওসিকে নিয়ে লেখেন, ‘তার বিদায়ে আমি কলিজা ছিঁড়ে দিতে পারি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ
দায়িত্বকালীন সময়ে ওসি আশরাফুল থাই ভিসা প্রতারক ও অনলাইন জুয়াড়িদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন এবং তাঁদের সঙ্গে প্রকাশ্যে আড্ডা দিতেন। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোই সেটির প্রমাণ।
উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ বলেন, ‘থাই ভিসা প্রতারক ও অনলাইন জুয়াড়িদের সঙ্গে তার যে সখ্যতা ছিল, বিদায়ের দিনে তা স্পষ্ট হয়েছে।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তিনি আমাদের কাউকে বিদায়ের কথা বলেননি; উল্টো ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।’
বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কিশোরগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘থানা থেকেই ওসি সাহেবের বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বেনজিররা থানায় এলে ওসি সাহেব নিজেই তাদের ডাকেন—তাই তাদের ছবি এসেছে।’