পুলিশের থাপ্পড়ে কৃষকদল নেতার কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষক দল নেতার। ঘটনা ঘটেছে সোমবার রাতে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার অভ্যন্তরে। আহত কৃষক দলের নেতা ফারদিন হাসান উজ্জ্বল বর্তমানে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম জানান, সোমবার ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের পরিচিত জনৈক আপন মাতুব্বরকে অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় আটক করা হয়েছে। এ খবরে রাত আটটার দিকে উজ্জ্বল তার জন্য ওষুধ ও কিছু শুকনো খাবার নিয়ে দেখা করতে গিয়ে এসআই কবিরের রোষানলে পড়েন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরেও কৃষকদল নেতার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এসআই কবির হোসেন। উত্তেজিত মুহূর্তে কিল, ঘুষি ও থাপ্পড় দিয়ে কৃষক দলের নেতাকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদস্যরা ধামাচাপা দিতে কৃষক দলের নেতার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেও এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় কৃষক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
ঘটনার পরে আহত অবস্থায় কৃষক দলের নেতা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়ে রাতে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদরাসা মাঠে প্রতিবাদ সভা করেন উপজেলা কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ। তারা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ এসআই কবির হোসেনকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।
ভুক্তভোগী ফারদিন হাসান উজ্জ্বল বলেন, আমার প্রতিবেশীকে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার জন্য থানার ভেতরে গিয়েছিলাম। তখন এসআই কবির আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কে?' আমি বলি, যাকে আটক করা হয়েছে তিনি আমার এলাকার ভাই হয়। আমি ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ কথা বলতেই আমাকে মারধর শুরু করেন। আমার কান দিয়ে রক্ত বের হওয়ায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে জানতে পারি কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে অভিযোগ করেন।
এসআই কবির হোসেন জানান, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। দুজনের মধ্যে নিছক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্ট হওয়ায় তৎক্ষণিক সমাধানও হয়েছে বলে জানান।