টাঙ্গাইলের মধুপুরে অপারেশনের সময় এশিয়া হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় খাদিজা খাতুন (২০) নামের এক প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের এশিয়া হসপিটালে নিহত খাদিজার সিজারিয়ান অপারেশন করালে সারাদিন তাকে পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে রক্ত দেয়া হলেও সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। আর মৃত্যুর এ বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মধ্যরাতে খাদিজার স্বজনদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
নিহত খাদিজা খাতুন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জের বাকতা গ্রামের শাহীন মিয়ার স্ত্রী। এটি ছিল শাহীন মিয়া খাদিজা দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। খাদিজার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনাড়া ইউনিয়নের মোটেরবাজার এলাকায়। দু’বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে খাদিজা ছিলেন দ্বিতীয়। চার বছর আগে তার বিয়ে হয় শাহীন মিয়ার সঙ্গে। এটি ছিল তার দ্বিতীয় সন্তানসম্ভবা অবস্থা।
নিহত খাদিজার বাবা লাল মিয়া জানান, সকালে প্রসববেদনা উঠলে খাদিজাকে মধুপুরের এশিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. শিমলা আফতাব শাওন সিজার অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। বেলা ১১টার দিকে সিজার শুরু হলেও কিছুক্ষণ পরই খাদিজার অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। সারাদিন তাকে রক্ত দেয়া হয়। তার পরও অবস্থা ভালো না হওয়ায় সন্ধ্যায় হাসপাতাল রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে তাড়াহুড়া শুরু হয়। এ সময় রোগীর খালা আসমা বেগম কাছে গিয়ে দেখেন শ্বাস প্রশ্বাস চলছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ময়মনসিংহ নেয়ার জন্য চাপ দিলে ঘটনা এ ঘটনায় রোগীর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে হাসপাতালের স্টাফরা পালিয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাসপাতাল পাহারা বসায়। রাত প্রায় ১২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের মাঝে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে এশিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করেও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ইমরানুল কবির জানান, লাশ হাসপাতাল থেকে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ন্যায়বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

