পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ

রাণীশংকৈলে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি

উপজেলা প্রতিনিধি, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

রাণীশংকৈলে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি
ছবি: আমার দেশ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নে একটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় ও ফসলের ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকার লিয়াকত হোসেনের মালিকানাধীন লিপা ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ৫ একর জমির আমবাগান এবং ১০ একর জমির খাদ্যশস্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এতে চরম আর্থিক লোকশানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

​জানা গেছে, বাংলাগড় ইক্ষু সেন্টারের পাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থাপিত একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ২১ মে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। কৃষক সেকেন্দার আলী মাস্টারের অভিযোগে জানা যায়, ১ মে ওই ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে তার নিজস্ব ১ একর ৬৯ শতক জমির আমবাগানসহ করলা, লাউ ও ভুট্টা ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তার বাগানে প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়।

বিজ্ঞাপন
amar desh (73)

এ জন্য আমি ইউএনও ও কৃষি অফিস বরাবর অভিযোগ দাখিল করি। কৃষি অফিস বিষয়টি গুরুতসহকারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি আমলে নেননি। পরবর্তীকালে পরিবেশ অধিদপ্তরে শুনানি চলছে। এখন আমি আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছি, কীটনাশকের দোকানে ও ব্যাংকে ঋণ পরিশোধ করতে পারছি না।

​এপ্রসঙ্গে ভাটা মালিক লিয়াকত আলী বলেন, অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা, আমার ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ১৮ জনের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেকেন্দার আলী ক্ষতির চেয়ে বেশি টাকা দাবি করায় বিষয়টি সমাধান হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার দপ্তরে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে প্রতিবেদনে তা উল্লেখ্য রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজিদা বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিফ করেনি এবং অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তামিম হাসানের মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি আমি পেয়েছি, গতকাল সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে, বুধবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...