আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাজশাহীতে চাঁদাবাজদের তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা

রাজশাহী অফিস

রাজশাহীতে চাঁদাবাজদের তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা
প্রতীকী ছবি

রাজশাহীতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হাতে হাতে কয়েক দিন ধরে ঘুরছে চাঁদাবাজদের নামের একটি তালিকা। তবে যে তালিকাটি ছড়িয়ে পড়েছে তা পুলিশের না সরকারের অন্য কোনো সংস্থার তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তালিকায় নেই পুলিশের বা অন্য প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর। জেলা মহানগর বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের পরিচয়ধারী ৭৫ জনসহ মোট ১২৩ জনের এই তালিকা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এতে দেখা গেছে, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ ৪৪ জনের নাম আছে। একইভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৫ জন ও জামায়াতের ছয়জনের নাম আছে। বাকিদের নাম-ঠিকানা দেওয়া থাকলেও নেই কোনো রাজনৈতিক পরিচয়।

বিজ্ঞাপন

তালিকার বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, তালিকাটি তিনি দেখেননি তবে শুনেছেন। না দেখে বলতে পারবেন না। সরকারি কোনো সংস্থার তালিকা এভাবে ছড়িয়ে পড়ার কথা নয়।

তালিকায় থাকা ছাত্রদলের এক নেতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের অনুসারীদের মামলার ভয়ভীতি ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টার থেকে চাঁদাবাজি করেছেন তিনি। তালিকাতে মহানগর বিএনপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক সম্পর্কে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছেন। মহানগর বিএনপির এক সদস্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি করেন তিনি।

জামায়াতের একজনকে ‘ক্যাডার’ উল্লেখ করে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভূমি দখল ও কেনাবেচা, বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিদের হুমকি-ধমকি ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা দিয়ে চাঁদা আদায় করেন তিনি। জামায়াতের আরো যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তাদের সবার নামে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের একজনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারির অভিযোগও আনা হয়েছে।

এছাড়া আগে আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিএনপি করেন এমন একজনকে দেশীয় অস্ত্রধারী ক্যাডার, গভীর রাতে রাস্তায় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদাবাজি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, তিনি এই তালিকা দেখে হতবাক হয়েছেন। তিনি বলেন, কোন সংস্থা বা কে করেছেন, জানা নেই, তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হচ্ছে, এই তালিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হতে পারে দু-একজন জড়িত, কিন্তু ঢালাওভাবে নাম দেওয়াÑএটা হতে পারে না। তবে আসল চাঁদাবাজদের নাম তালিকায় নেই।

বিএনপির এ নেতা বলেন, এখন সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় প্রশাসনের লোকজন কাকে ফিডব্যাক দিচ্ছে এটা বোধগম্য হচ্ছে না। তারা চাচ্ছে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হোক। এটা তাদের চক্রান্তের একটা অংশ হতে পারে।

তিনি বলেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে এই তালিকার বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। পুলিশ কমিশনার তাকে কোথাকার কী কল রেকর্ডÑএসব দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি পুলিশ কমিশনারকে বলেছেন, আপনি তদন্ত করেন আবার।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মণ্ডল জানান, যাদের নাম তালিকায় আছে তাদের সংগঠন থেকে অনেক আগেই সম্পূর্ণ বয়কট করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন