ইরান-ইসরাইল নতুন যুদ্ধ

ওয়াশিংটনের সঙ্গে দর কষাকষিতে তেহরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ওয়াশিংটনের সঙ্গে দর কষাকষিতে তেহরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে

মধ্যপ্রাচ্যে আবারো উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইসরাইল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সংযমের আহ্বান জানালেও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ককে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি চলমান পারমাণবিক আলোচনা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে দর-কষাকষিতে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইল। এর আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে দাবি করে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারো সামনে চলে এসেছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে যতটা দাবি করেন, বাস্তবে ততটা ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কিংবা করতে চাইছেন না। দ্বিতীয়ত, ইরান নিজ ভূখণ্ডে পাল্টা হামলার ঝুঁকি নিয়েও ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধকে একসূত্রে গাঁথতে আগ্রহী। তৃতীয়ত, পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত সমঝোতা এখনো খুব কাছাকাছি নয়, কারণ তেহরান মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ সীমিত।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকতে বলবেন। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা চালায় ইসরাইল। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যেই অভিযানে রওনা হয়েছিল।

যদিও অনেকের মতে এটি ট্রাম্পের আহ্বান অগ্রাহ্য করার শামিল, তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত সীমিত পরিসরে ইসরাইলের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত ছিল। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সমন্বয় ছিল। পাশাপাশি ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতেও যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল কেবল প্রতিশোধ নয়; বরং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরীক্ষা করা। তেহরান জানতে চেয়েছিল, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কতদূর পর্যন্ত সমর্থন দেবে এবং সরাসরি জড়াবে কি না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সম্ভাব্য মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করাও ছিল ইরানের কৌশলের অংশ।

এদিকে সংঘাতের পরও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে উভয় পক্ষ। ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি খুবই কাছাকাছি। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সামরিক সক্ষমতা ও কূটনীতি এই দুই শক্তির সমন্বয়ই দেশের স্বার্থ রক্ষা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যুদ্ধক্ষেত্রও ছাড়িনি, আলোচনার টেবিলও ছাড়িনি।’

অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ইরানের প্রধান লক্ষ্য হলো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা তেল বিক্রির বিপুল অর্থ ফেরত পাওয়া। পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরাইলের সামরিক চাপ কমানোও তেহরানের অগ্রাধিকার।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তেলের উচ্চমূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে বড় ধরনের সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান আলোচনার টেবিলে আরও বেশি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে। ফলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ালেও, একই সঙ্গে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনায় ইরানের দর-কষাকষির শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র: বিবিসি

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...