আমার দেশ অনলাইন

মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের সম্পদ লুটপাট ও দুর্নীতির কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। দেশের অর্থসম্পদ লুটপাট এবং বিদেশে তা পাচারের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে হাসিনা সরকার ও তাদের দোসররা। অর্থ লুটপাটের অন্যতম একটি দিক ছিল মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্প। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংস করে দেশকে বিদেশি পণ্যের বাজারে পরিণত করা। বিদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি ছিল দুর্নীতি, লুটপাট ও বিদেশে অর্থ পাচারের অন্যতম একটি মাধ্যম।
আমার দেশ-এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে ৬৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম দেখানো এবং রপ্তানিতে কম মূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে মূলত এ কারসাজি ঘটানো হয়েছে।
কর ফাঁকি, মুনাফা স্থানান্তর এবং বিদেশে সম্পদ স্থাপনের উদ্দেশ্যেই এ কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রবণতা এখনো অব্যাহত আছে, যার ফলে সরকারি রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মোট অর্থের প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী দেড় যুগের শাসনামলে বিদেশে অর্থ পাচার বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়, কিন্তু মাত্র ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয়। অন্তর্বর্তী সরকার বারবার পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরত আনার কথা বললেও বাস্তবে তখন আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া মাফিয়াতন্ত্র ও অলিগার্ক শ্রেণির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। মাফিয়া শাসক হাসিনার পতনের সঙ্গে সঙ্গে তার দোসর সেই ব্যবসায়ী শ্রেণি রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলে এবং নানাভাবে বিভিন্ন মহলকে প্রভাবিত করে এখনো টিকে আছে। তাদের কেউ কেউ জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন নস্যাৎ করারও চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হল দেশের সম্পদ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িতরা দেশে বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অগ্রাধিকার দিতে হবে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে। একই সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো-দেশের সম্পদ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িতরা দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
অগ্রাধিকার দিতে হবে পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে। একই সঙ্গে মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।