দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে একদিনে বয়স্ক, শিশুসহ অর্ধশতাধিক নারী পুরুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মহিফুল বেগম নামে (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নারী গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
কুকুরের হিংস্রতা এত বেশি ছিলো যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই যাকেই যেখানে পেয়েছে তাকেই কামড়ে যখম করেছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের চককবির, পালপাড়া, দাসপাড়া, রামভদ্রপুর, পূর্ববাজিতপুর, দাদপুর আবাসন, মালিপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এতে ওইসব এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা অনেকে ভয়ে স্কুলেও যেতে পারেনি। পরে এলাকাবাসী একজোট হয়ে ওই কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুরের কামড়ে আহত মোট ৫১ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে শুধুমাত্র চককবির গ্রামেরই ৩৪ জন। আহতদেরকে এন্টির্যাবিস ভ্যাক্সিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, হাসপাতালে মোট ৩শ টি জলাতঙ্ক প্রতিরোধক এন্টির্যাবিস ভ্যাক্সিন মজুদ রয়েছে। আরও ২শ টির চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
চককবির গ্রামের আলমগীর হোসেন (৫০) বলেন, সকাল ৮টার দিকে সাইকেল নিয়ে ধানের জমিতে যাচ্ছিলাম। সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়াতেই পেছন থেকে দৌঁড়ে এসে পায়ে কামড় দেয় একটি কুকুর। উপায়ন্তর না পেয়ে কুকুরের কান ধরে টেনে ছাড়িয়ে নেই। এসময় দৌঁড়ে পালিয়ে গিয়ে আরও একজনকে কামড় দেয় কুকুরটি।
দাসপাড়া গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩৫) বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় রাস্তায় হাঁটছিলাম। দ্রুতগতির একটি ক্ষিপ্র কুকুর কোনো কারণ ছাড়াই উরুতে কামড় বসিয়ে দেয়। তখন মনে হয়েছিলো যেন মাংস ছিড়ে নিবে। অনেক কষ্টে ছাড়িয়ে নেই। এসময় যারা সাহায্য করতে এসেছিলো তারাও কামড় খেয়েছে।
পূর্ববাজিতপুর গ্রামের সাজু ইসলাম, চককবির গ্রামের মেহেরাব হোসেন, আবাসন এলাকার আজিজুল হক জানান, আগে প্রতি বছর সরকারি ভাবে কুকুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা হত। অভিযান বন্ধ রাখায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এত অল্প সময়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নওরোজ হাসান বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুকুরে কামড়ানো মোট ৫১ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকাপ্রদানসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া মহিফুল বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারী গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন মজুদ রয়েছে। কুকুর কামড়ালে সাথে সাথে প্রাথমিকভাবে জখমকৃত অংশ ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে বেশি করে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

