আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কে হচ্ছেন সিলেট-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী

উপজেলা প্রতিনিধি, ওসমানীনগর (সিলেট)

কে হচ্ছেন সিলেট-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় রাজনৈতিক জোটের ঐক্য চূড়ান্ত হলেও সিলেট-২ (ওসমানীনগর–বিশ্বনাথ) আসনে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে আসনটিতে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নানকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার দাবিও উঠেছে।

জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিশের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ মুনতাসির আলীকে সিলেট-২ আসনের সম্ভাব্য চূড়ান্ত প্রার্থী করা হতে পারে—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ছোহরাব আলী বলেন, সিলেট-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা আমরা পাইনি। কে প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা খেলাফত মজলিশের সভাপতি মাওলানা শুয়াইব আহমদ। তিনি জানান, জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিশ্চিত হতে আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, জোটের স্বার্থে প্রয়োজনে আমি এ আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।

সিলেট-২ আসনটি সিলেট জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন আসন হিসেবে পরিচিত। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

১০ দলীয় জোটের প্রাথমিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর সিলেট-২ আসনে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ মুনতাসির আলী নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং অধ্যাপক আব্দুল হান্নান বাদ পড়তে পারেন—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাস্তবে উভয় প্রার্থীই মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও মাঠপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নানের প্রচারণা অব্যাহত থাকে।

অন্যদিকে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মোহাম্মদ মুনতাসির আলীর পক্ষে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো দৃশ্যমান নির্বাচনি প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এক-দুটি কর্মী সভা এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করলেও মাঠপর্যায়ে ব্যাপক উপস্থিতি কিংবা গণসংযোগ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নানকে বাদ দিয়ে জোটের সিদ্ধান্তে যদি সিলেট-২ আসনে খেলাফত মজলিশের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়, তবে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, বিএনপির শক্ত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের কর্মীসমর্থন এবং স্থানীয় পরিচিতির দিক থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। অপরদিকে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মোহাম্মদ মুনতাসির আলীর সাংগঠনিক ভিত্তি এ আসনে তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং জনভিত্তিও সীমিত। তাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষার মধ্যে দিয়েই সিলেট-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সংক্রান্ত এ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন