আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র

শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে শাস্তির ব্যবস্থা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে শাস্তির ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় সংস্থাটির তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তরে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শোকজ করার বিষয়টি সত্য। পত্র-পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে, তারাই শোকজের তালিকায় রয়েছেন। তাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করার এখতিয়ার রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু শোকজ করা হয়েছে, তাই এই মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে না। শোকজের জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে বলা যাবে।

শোকজ করা তিন কর্মকর্তা হলেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, নীল দল থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এই তিন কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে এক্সিম ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর করা, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসহ বিভিন্ন নিয়মতান্ত্রিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি সর্বদলীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল, হলুদ ও সবুজ—এই তিন দল থেকে ওই ঐক্যে নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ মফিজুর রহমান খান চৌধুরীকে সমন্বয়ক করা হয়। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে তাকে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলন, সভা, সেমিনার, বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। আবার গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে আলোচনার সুযোগ রয়েছে; এভাবে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ নেই। অথচ নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে একই দিন অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিকাশকে তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা করছেন গভর্নর। তবে কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা নথিতে দেখা যায়, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াসহ আটটি এজেন্ডার ভিত্তিতে পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ ব্যাংক খাত নিয়ে গভর্নরের ‘খেয়ালিপূর্ণ’ বক্তব্য বন্ধ করা এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক রেজল্যুশন নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, অপেক্ষাকৃত কম দুর্বল এক্সিম ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।

কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন চাই। তবে স্বায়ত্তশাসন হবে প্রতিষ্ঠানের জন্য, ব্যক্তির জন্য নয়। স্বায়ত্তশাসন মানে এই নয় যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান একনায়ক বা স্বৈরাচার হয়ে উঠবেন। গভর্নর স্বৈরাচার হয়ে উঠেছেন বলেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা এই সংবাদ সম্মেলন করেছি।

বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা নীরব ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুম বিল্লাহ বলেন, আগে বলিনি বলে এখন প্রশ্ন তুলছেন। এখনও না বললে ভবিষ্যতেও প্রশ্ন তুলবেন। আমরা এই দায় বহন করতে চাই না।

নওশাদ মোস্তফা বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান না ঘটলে হয়তো আমরা এতটা উন্মুক্তভাবে কথা বলতাম না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন