আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সায়েন্স ল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ

সাত কলেজের আন্দোলনে নগরজুড়ে ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার

সাত কলেজের আন্দোলনে নগরজুড়ে ভোগান্তি

ঢাকার বড় সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করলে স্থবির হয়ে পড়ে মিরপুর সড়ক ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। বাস, মিনিবাস, প্রাইভেট কার, রিকশা—সব ধরনের যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ লাইনে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

বিজ্ঞাপন

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বের হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে পৌঁছে অবস্থান নেন এবং দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সড়ক পুরোপুরি অবরোধ করেন। একই সময়ে মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড়েও শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল সড়কে বসে পড়ে। ফলে একযোগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত রুটে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে তারা স্লোগান দেন—‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সংকট চললেও কার্যকর সমাধান আসেনি, তাই বাধ্য হয়েই তারা আবার সড়কে নেমেছেন।

অবরোধ শুরুর পরপরই সায়েন্স ল্যাব থেকে আজিমপুর, নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি ও মিরপুরমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মিরপুর সড়কের আজিমপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। মিরপুর-১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকায়ও একই চিত্র দেখা যায়। কয়েক শ মিটার পথ অতিক্রম করতে গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হয় আধা ঘণ্টারও বেশি সময়।

বাসযাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ যেন ঢাকা শহর থমকে গেছে। অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রিকশা ও অটোরিকশার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও বেড়ে যায়। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এমনকি রোগীবাহী যানবাহনও যানজটে আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে।

সাধারণ মানুষের ক্ষোভ

অবরোধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। সাভার থেকে গুলিস্তানগামী এক যাত্রী বলেন, ‘যার যেখানে ইচ্ছা রাস্তা বন্ধ করছে। আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। কেউ কি এসব দেখছে না?’

এক কর্মজীবী নারী বলেন, ‘অফিসে সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়, সেটা আন্দোলনকারীরা বোঝে না।’

তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ন্যায্য। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলন হবেই। তাদের মতে, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত এলে এমন ভোগান্তি কমানো সম্ভব।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশ সায়েন্স ল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। কিছু সড়কে যানবাহনকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্যোগ নেয়। তবে অবরোধ চলমান থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং প্রক্রিয়াগত ধাপ শেষ করে অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ কাটেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পর থেকেই এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জটিলতায় ভুগছেন। পরীক্ষা, ফল প্রকাশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ পরিমার্জিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কলেজগুলো নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন