ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্ন অর্থের বিনিময়ে ফাঁসের একাধিক তথ্য প্রমাণ উঠে এসেছে ইলিয়াস চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করেনি প্রশাসন। প্রশ্ন মতো গুরুতর অপরাধে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর এ কলেজগুলোতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্ন দীর্ঘ সময় ধরে অফিস সহকারী ইলিয়াস চক্রের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে আসছে। এই চক্র পরীক্ষার তিন থেকে চারদিন আগে অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে কলেজগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মাঝে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করে আসছে। চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্ন ফাঁস করে আসলেও এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁসের নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা কলেজ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী-যেই হোক না কেন-তাদের দ্রুত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে অন্য কোনো কলেজ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে বের করা জরুরি।
এ ছাড়াও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আমিনুর রশিদ আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টা পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। ইলিয়াস সহ যারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা আমাদের দাবি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে আমিও শুনেছি। তবে এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। আগামীকাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
ইলিয়াস চক্রের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এ বিষয়ে ঢাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রী শেখর চক্রবর্তী বলেন, আমি বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঢাকা কলেজের, তাই আগে সেখান থেকে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। যদি ঢাকা কলেজে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া যায়, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

