জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে পোড়ানোর ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সময়ের যুক্তিতর্ক চলছে। এ সময় ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবী মিরাজুল আলম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘‘৫ আগস্ট সারাদেশের থানাগুলোতে অ্যাটাক হয়েছিল ‘দ্যাট ইজ দ্য সিস্টেমেটিক অ্যাটাক’।’’ তখন উপস্থিত প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি জুলাই আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ করছেন কিনা, ব্যাখ্যা দেন।’
মঙ্গলবার সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানি শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
যুক্তিতর্কে মিরাজুল আলম বলেন, ‘আরাফাতের কাছে কোনো অস্ত্র ছিলো না। সে আন্দোলনকারীদের হত্যাও করেনি।’ জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘লাশ পোড়াতে অস্ত্র লাগে না ‘ একপর্যায়ে মিরাজুল বলেন, ‘‘৫ আগস্ট সারা দেশের থানাগুলোতে অ্যাটাক হয়েছিল ‘দ্যাট ইজ দ্য সিস্টেমেটিক অ্যাটাক’।’’ তখন উপস্থিত প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি জুলাই আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ করছেন কিনা, ব্যাখ্যা দেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। এ সময় প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকে আপনি চ্যালেঞ্জ করছেন, এটিই আপনার সাবমিশন কিনা।’ জবাবে মিরাজুল বলেন, ‘আমি নিজে জুলাইযোদ্ধা। আন্দোলনে ধানমন্ডিতে দায়িত্ব পালন করেছিলাম।’ তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আপনি নিজের গল্প না বলে আর্গুমেন্ট করেন।’ পরে পুনরায় আর্গুমেন্ট শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিরাজুল আলম।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে পোড়ানোর ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলাটির আট আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন-ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট বেলা তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর বাইরে আরও একজন গুলিতে গুরুতর আহত হন।
একজনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে এই ছয়জনকে (যার মধ্যে একজন জীবিত) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় যারা শহীদ হয়েছেন, তারা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

