বিচারকের ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা, সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতার ওপর ন্যায়বিচারের সর্বোত্তম নিশ্চয়তা নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন গুম-সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিচারককে সব মামলা সমান উদ্যম, কঠোরতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার করতে হবে। প্রতিদিন সকালে যখন বিচারকরা তাদের পোশাক পরিধান করবেন, তখন তাদের সংবিধানের কথাগুলো স্মরণ করা উচিত। প্রজাতন্ত্র হবে এমন এক গণতন্ত্র যেখানে সব মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এনশিওরিং জাস্টিজ : দ্য রোল অব দ্য জুডিশিয়ারি ইন অ্যাড্রেসিং এনফোর্সড ডিসএপিয়ারেন্স’ শীর্ষক চতুর্থ কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী কর্মশালাটি গুম কমিশনের উদ্যোগে ও ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আসুন, আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলি যেখানে ঢাকার একজন ফেরিওয়ালা বা খুলনার একজন পোশাকশ্রমিক বা সিলেটের রিকশাচালকও বলতে পারেন আমরা আদালতের প্রতি আস্থা রাখি, আমরা বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখি।’
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের চিফ অব মিশন হুমা খান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বিচারকদের নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গুমের ভিকটিমদের করুণ পরিণতি এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।
কমিশনের সদস্য বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী বলেন, গুম-সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
কর্মশালায় কমিশনের সদস্য নূর খান বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে ভিকটিমদের অধিকার নিশ্চিতকরণ ও ভিকটিমদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে সেশন পরিচালনা করেন। এছাড়া বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা। ওয়ার্কিং সেশন পরিচালনা করেন কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন।
কর্মশালা সঞ্চালনা করেন কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারকসহ প্রায় ৯০ প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নেন।

