ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাইয়ে কতিপয় রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের পক্ষে সাবেক এই সচিব ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে বিসিএস কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মোহাম্মদ শরিফুল আলম আরো বলেন, বিগত তিনটি ব্যর্থ ও জালিয়াতির নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন জাতির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের ওপর গণতন্ত্রে উত্তরণ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচন ব্যর্থ হওয়ার জন্য শাসকশ্রেণির সঙ্গে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের যথার্থ কারণে দায়ী করা হয়।
এ সময় তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সংগঠনের পক্ষেে আটটি দাবি তুলে ধরা হয়---
১. নির্বাচনের সাথে জড়িত যেসব কর্মকর্তার, বিশেষতঃ রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।
২. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনি আইন প্রয়োগে পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে কঠোর হতে হবে।
৩. ভোট কারচুপি এবং অন্যান্য অনিয়ম রোধে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে।
৪. নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ প্রদান করবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে শিগ্গির একটি স্বতন্ত্র গাইডলাইন প্রকাশ করবে।
৫. নির্বাচনসংশ্লিষ্ট যে কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপন হলে তদন্ত সাপেক্ষে সঙ্গে সঙ্গে তাকে তার কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব ধরনের কাজ থেকে বিরত করতে হবে। পরবর্তী সময়ে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রমোশনের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। অভিযুক্তদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে চাকুরিচ্যুত করতে হবে।
৬. নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন অফিস, বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে 'অভিযোগ বাক্স' রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জনসাধারণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুই-তিন দিন পরপর ব্রিফিং করবে।
৭. সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের অঙ্গীকার নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, বিশেষ সহকারীবৃন্দ এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত অন্যান্য শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে, তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হবেন না। এ জন্য সরকারকে এখনই প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
৮. নির্বাচনকালে যারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের নির্বাচন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে লটারির মাধ্যমে অন্য কর্মস্থলে আবশ্যিকভাবে বদলি করতে হবে। এ জন্য এখনই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

