আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। তারা সরকারিভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা সরকারিভাবে নিবন্ধন করে সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে রাস্তায় চালাতে চান। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা তাদের সেই সুযোগ দিচ্ছেন না।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সভায় তারা এই দাবিসমূহ তুলে ধরে।
আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম মাইজভান্ডারি বলেন, ৭০ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি রক্ষায় রাজনৈতিক দল ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বর্তমানে দেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নীতিমালা না থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা আজও নিরাপদ হয়নি। ফলে শ্রমিক ও তাদের পরিবারসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ রুটি-রুজির অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
আলোচনা সভা থেকে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবিসমূহ—
১. আধুনিকায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করে দেশের সড়ক উপযোগী মডেলে আধুনিকায়নসহ বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান এবং যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আধুনিকায়নের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।
২. বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করতে হবে এবং লাইসেন্স প্রদান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করতে হবে।
৩. অবিলম্বে জরিপের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক অটোরিকশার সংখ্যা ও মালিকানা নির্ধারণ করে আনুপাতিক হার পদ্ধতিতে সকলের লাইসেন্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দেশের সড়ক উপযোগী মডেল সকলের জন্য উন্মুক্ত করে বাহনসমূহের আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে এবং বাহন বিনিময় নীতি শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্ধারণ করতে হবে।
৫. শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন করতে হবে।
৬. ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের ওপর জুলুম, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অবৈধ কার্ড ও টোকেনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. ব্যাটারিচালিত যানবাহন গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।
৮. বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। সকল সড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং বাস্তবসম্মত ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৯. নিত্যপণ্যের ভ্যাট কমাতে হবে এবং শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বাসস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
১০. ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন হিসেবে শিল্পের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এক অঙ্কের সুদে জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
১১. জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহন সংক্রান্ত সকল রিট দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
১২. রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের নাগরিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে অমানবিক শ্রম থেকে মুক্ত করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

