ভূমিকম্পে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এডাবের ১০ সুপারিশ

ভূমিকম্পে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এডাবের ১০ সুপারিশ

ভূমিকম্পে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা সুপারিশ করেছে এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ- এডাব এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র-ক্যাপস।

বুধবার সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার থেকে এসব সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এডাবের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও এডাবের পরিচালক একেএম জসিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্যাপসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। এতে বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সাবেক পরিচালক অপারেশন মেজর (অব:) শাকিল নেওয়াজ, অপরাজেয় বাংলার নির্বাহী ওয়াহিদা বানু, অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নাঈম ওয়ারা, বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, এডাবের বিভাগীয় সমন্বয়কারী নূরুল ইসলাম ও তাহমিনা বাশার নাজনীন প্রমুখ।

ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ১০ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নতুন সব ভবনকে ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা অনুযায়ী নির্মাণ নিশ্চিত করা; রাজউকের অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করণ এবং বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; পুরোনো ও দুর্বল ভবনগুলোর নিয়মিত স্ট্রাকচারাল অডিট করে প্রয়োজনে শক্তিশালীকরণ (রেট্রোফিটিং) অথবা অপসারণ; হাসপাতাল, স্কুল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে ভূমিকম্প-সহনশীল করে গড়ে তোলা; প্রতিটি পরিবারের উচিত ভূমিকম্পকালীন করণীয়, নিরাপদ সমবেত স্থান এবং জরুরি যোগাযোগের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা; প্রতিটি পরিবারে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, টর্চলাইট, ব্যাটারি, গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি ও নগদ অর্থসহ একটি জরুরি কিট রাখা; স্কুল, অফিস ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকল বয়সের মানুষের মধ্যে সঠিক করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; ভূমিকম্প চলাকালীন ভবনের ভেতরে থাকলে টেবিল বা শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া, লিফট ব্যবহার না করা এবং কাচ ও ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকা; ভূমিকম্প-পরবর্তী আফটারশকের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করা এবং আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা; সম্পদ সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নথি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ, ভারী আসবাব সঠিকভাবে রাখা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভূমিকম্প বীমা ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ভূমিকম্পে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ও প্রস্তুতি সন্তোষজনক নয়। তাই যেসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের অনীহা ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে তা দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...