এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত সরকারের প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি সদ্যবিদায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন।
সরকারের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো কী—এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েই এসেছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশকে গড়ে তোলা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই এই মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে, যা মানুষের সমস্যা সমাধান করে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
মির্জা ফখরুল আরো যোগ করেন, ‘আমাদের সবকিছুর মূলে থাকবে গণতন্ত্র। বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সরাসরি তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমি নিজেও একসময় স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, যা আমার জন্য একটি বাড়তি সুবিধা।’
দেশের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিস্থিতি আপনারা যতটা খারাপ ভাবছেন, আসলে ততটা খারাপ না। আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ব্যাষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরেছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা একে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব।’
তথাকথিত ‘মব জাস্টিস’ নিয়ে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বিগত দেড় বছরে যা হয়েছে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করব। একটি বড় গণ-অভ্যুত্থানের পর সবকিছু রাতারাতি ঠিক হয়ে যায় না। তবে এখন একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে, যা আমাদের জন্য বড় অর্জন।’
নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয় এবং মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। কারণ, তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে, যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি। সেটা তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং, ইউ মাস্ট গিভ ক্রেডিট টু দেম (তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে)। দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

