সিলেটে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পুড়েছিলেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হাসান ঈসাখিল ও রংপুর রাইডার্সের তাওহিদ হৃদয়। এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পোড়া ক্রিকেটার ছিলেন তারা দুজনই। হাসান ঈসাখিল ৯২ রানে আউট হয়ে আক্ষেপে পোড়েন। আর নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হওয়ায় তাওহিদ হৃদয়কে থামতে হয় ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে।
সিলেটে সেঞ্চুরি মিসের সেই আক্ষেপ মিরপুরে পুষিয়ে নিয়েছেন দুজনে। তাও একই ম্যাচে। গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে সেঞ্চুরি তুলে নেন হাসান ঈসাখিল। পরের ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন তাওহিদ হৃদয়। সিলেটে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পোড়া দুজনে গতকাল খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। হাসান ঈসাখিলের জন্য এটা ছিল প্রথম সেঞ্চুরি আর হৃদয়ের জন্য এটা দ্বিতীয়।
আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে গতকাল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ওপেনিংয়ে নামে হাসান ঈসাখিল। সিলেটে প্রথমবার বিপিএলে মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে খেলেন ৯২ রানের ইনিংস। বাবার সামনে সেদিন সেঞ্চুরি মিস করে বসেন। তবে মিরপুরে ফিরে সেই সুযোগ আর হাতছাড়া করেননি। গতকাল খেলেন অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংস। ওপেনিংয়ে নেমে ৭২ বলে খেলেন এই ঝোড়ো ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ১১ ছক্কা। তার এই পারফরম্যান্সই বলে দেয় কতটা আগ্রাসী ছিলেন তিনি। ওপেনিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ছিলেন উইকেটে। তার ব্যাটে ভর করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায়।
অন্যদিকে নোয়াখালীর ছুড়ে দেওয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তাওহিদ হৃদয়। এর আগে ২০২৪ সালে এই বিপিএলেই পান প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। সেবার ১০৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। এবার আগের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসকে টপকে যান তাওহিদ হৃদয়। দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেওয়ার পথে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১৫ চার ও দুই ছক্কা। হাসান ঈসাখিলের চেয়ে বেশি রান করা হৃদয় খেলেছেন ৬৩। এমনকি তার চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে বেশি করেছেন।
তবে দুই সেঞ্চুরিয়ানের মধ্যে ছক্কার হিসাবে ঢের পিছিয়ে আছেন তাওহিদ হৃদয়। যেখানে হাসান ঈসাখিল হাঁকান ১১ ছক্কা, সেখানে হৃদয়ের ইনিংসে ছয়ের সংখ্যা দুটি! আর চারের হিসাবে এগিয়ে আছেন হৃদয়। তার ১৫ চারের বিপরীতে ঈসাখিলের ব্যাটে আসে চারটি চার। তবে সবচেয়ে বড় মিল—দুজনই সিলেটে জাগিয়েছিলেন সেঞ্চুরির আশা। লাক্কাতুরায় সেই আশা পূর্ণ না হলেও হয়েছে মিরপুরে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

