সবশেষ পাওয়া ইনজুরিতে মানসিকভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। এ কারণে ফুটবলকে গুডবাই বলতে চেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার। সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার বাবা ও এজেন্ট নেইমার সিনিয়র এমনটাই জানিয়েছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘মেনিস্কাসে চোট পায় সে, আমরা তার সঙ্গে কথা বলার আগেই গণমাধ্যমে ওই খবর ফাঁস হয়ে যায়। তখন তার মাথা কাজ করছিল না। এতকিছু সামলানো কঠিন হয়ে যায়। আমি আমার ছেলের বাসায় যাই। জিজ্ঞেস করি, এখন তুমি কেমন আছ?’
নেইমার সিনিয়র আরো যোগ করেন, ‘সে আমার দিকে ঘুরে বলে- আমি আর নিতে পারছি না। অস্ত্রোপচার করে ফেলি। বাবা, আমি জানি না অস্ত্রোপচারে কাজ হবে কি-না। যথেষ্ট হয়েছে।’
চোট কিছুতেই তার পিছু না ছাড়ায় নেইমারকে হজম করতে হচ্ছিল সমালোচনার তির্যক কথা। ক্যারিয়ারের এই খারাপ সময়ে তার পাশে দাঁড়ান বাবা। সমালোচনা আমলে না নিয়ে নেইমারকে মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিন্দুকদের জবাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাকে বলিÑসেরে ওঠার জন্য তুমি যদি অস্ত্রোপচার করাতে চাও, আমি তোমার সঙ্গে আছি। পরদিন সকালে সে অনুশীলন শুরু করে, বাঁ পায়ে ও ডান পায়ে বল মারতে থাকে। তারপর সে মাথা নেড়ে বলেÑআমার মনে হয় আমি এটা (খেলতে) করতে পারব। সে খেলায় ফিরে যায় এবং গোল করে।’
ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা, চলতি মাসের শেষদিকে মাঠে ফিরতে পারবেন নেইমার। পরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বার্সার সাবেক এই মেগাস্টারকে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ১২৮ ম্যাচ খেলে রেকর্ড ৭৯ গোল উপহার দিয়েছেন নেইমার। খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্ব শিরোপার স্বাদ এখনো পাননি। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে সেই অপূর্ণতা দূর করতে চান সেলেসাওদের এই প্রাণভোমরা।
নেইমার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে খেলার সময় বাঁ হাঁটুর এসিএল ও মেনিসকাসে চোট পেয়েছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। সেই ইনজুরি থেকে সেরে উঠলেও পরে কয়েক দফা চোটে পড়েন। তাই শতভাগ ফিটনেস ফিরে পাননি আর কখনই। সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে স্বদেশি ক্লাব সান্তোসে নাম লিখলেও ফর্মে আর ফিরতে পারেননি নেইমার। গত ২২ ডিসেম্বর বাঁ হাঁটুতে ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করাতে বাধ্য হন। সেই অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে এখন মাঠে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নেইমার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

