উত্তর কোরিয়া আজ রোববার তার পূর্ব উপকূল থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এটি ২০২৬ সালের প্রথম উৎক্ষেপণ, যা দক্ষিণ কোরিয়ার নেতার চীনে শীর্ষ সম্মেলনে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে করা হয়েছে।
আজকের অভিযান শুরু হয়েছে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পর, যেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার দেশ থেকে আটক করে নেওয়া হয়।
সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৫৯.২ মাইল) পথ অতিক্রম করেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, যা যথাক্রমে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ৯০০ ও ৯৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, “উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আমাদের দেশ ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ এবং একেবারেই অসহনীয়।”
দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি “নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছে” এবং পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। সিউলে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও জরুরি সভা আহ্বান করেছে।
একজন বিশ্লেষক জানিয়েছেন, শনিবার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান সম্ভবত এই উৎক্ষেপণ চালানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। হং মিন, কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন থেকে বলেন, “মূল বার্তাটি সম্ভবত এমন যে, উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করা ভেনেজুয়েলার ওপর আক্রমণের মতো সহজ হবে না।”
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বজায় রাখার যুক্তি দিয়ে আসছে। সাবেক একজন উচ্চপদস্থ উত্তর কোরিয়ান কূটনীতিকও বলেছেন, পিয়ংইয়ং মাদুরোকে আটক করার মার্কিন অভিযান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
এসআর/এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

