টানা এক সপ্তাহ ধরে উত্থানের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা কমায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে স্বর্ণের উত্থানে কিছু ভাটা পড়ে। একই সঙ্গে আরেক মূল্যবান ধাতু রুপার দামেওনিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬০৩ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৪২ দশমিক ৭২ ডলারে ছুঁয়েছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
একই সময় ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬০৬ দশমিক ৭০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এছাড়াও শুক্রবার স্পট সিলভারের দাম প্রতি আউন্সে ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৩৩ ডলার লেনদেন হচ্ছে, যদিও আগের সেশনে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৫৭ ডলার ছুঁয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতা ও প্রত্যাশার চেয়ে কম মার্কিন মূল্যস্ফীতি তথ্যের ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় স্বর্ণের ওপর আগ্রহ কিছুটা কমেছে।
জুলিয়াস বেয়ার বিশ্লেষক কার্স্টেন মেনকে বলেছেন, ‘(সোনার) বাজারে অনেক গতি ছিল, যা এই মুহূর্তে কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে.... মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য এর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মার্কিন ডলারের কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়’। মূলত ডলারের শক্তিশালী হওয়ার ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণের দাম বেশি হয়ে যায়।
অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চলমান বিক্ষোভ কমে এসেছে এবং এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে ইরানের উত্তেজনাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে আপাতত ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

