আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভারতে ‘অবৈধ মাদরাসা’ চালানোর অভিযোগে স্কুল গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে ‘অবৈধ মাদরাসা’ চালানোর অভিযোগে স্কুল গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশে অনুমতি ছাড়া ‘অবৈধ মাদরাসা’ চালানোর অভিযোগে একটি স্কুল ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার প্রদেশের বেতুল জেলার ভৈনসদেহি মহকুমার ধাবা গ্রামের ওই স্কুল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মধ্যপ্রদেশে মোট ৮৩ হাজার সরকারি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ২০০টির কোনো ভবন নেই। দুই হাজার স্কুলে ছেলেদের টয়লেট ও ১ হাজার ৭০০ স্কুলে মেয়েদের টয়লেট রয়েছে। তা সত্ত্বেও এসব স্কুল চলমান রয়েছে। কিন্তু ‘মাদরাসা’ হিসেবে চালানোর অভিযোগে স্কুল গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশটিতে চলমান ইসলামোফোবিয়ার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ধাবা গ্রামের বাসিন্দা আবদুন নাইম নিজে ২০ লাখ রুপি খরচ করে স্কুলটি তৈরি করেছেন। গ্রামটির ২ হাজার বাসিন্দার মধ্যে মাত্র তিনটি মুসলমান পরিবার রয়েছে।

স্কুল গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে গুজব ছড়ানো হয়, নাইম কোনো অনুমোদন ছাড়াই গ্রামে একটি মাদরাসা চালাচ্ছেন। তবে নাইম জানান, তার স্কুল ভবন নির্মাণ সম্পন্নই হয়নি এবং স্কুলটিতে এখনো কোনো ক্লাস শুরু হয়নি।

১১ জানুয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে অনুমোদন না থাকার অভিযোগে স্কুল ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য নাইমের কাছে নোটিস পাঠানো হয়। পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে তিনি জানান, ৩০ ডিসেম্বর স্কুলটির অনুমতির জন্য প্রদেশের স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টে আবেদন করেছেন। স্কুলটিতে নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী পড়ানো হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

অপরদিকে স্কুলটির বিরুদ্ধে নোটিসের প্রতিবাদে গ্রামের অন্য বাসিন্দারাও বিক্ষোভ করেন। নাইমের সাক্ষাতের পর এবং গ্রামবাসীর ক্ষোভের মুখে সোমবার পঞ্চায়েত স্কুলটিকে অনাপত্তি সনদ দেয়। পঞ্চায়েতপ্রধান পরে জানান, তিনি স্কুলটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ পাননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভৈনসদেহি মহকুমার ম্যাজিস্ট্রেট অজিত মারাভির নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল মঙ্গলবার ধাবা গ্রামে এসে স্কুল ভবনের কিছু অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামটিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে আবদুন নাইম বলেন, ‘আমাকে বলা হয়, পঞ্চায়েতের অনাপত্তি সনদ না থাকায় ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার জানা ছিল না পঞ্চায়েতের কাছ থেকে অনাপত্তি সনদ প্রয়োজন। এর জন্য জরিমানা দিতেও আমি প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু কালেক্টর জানান, এটি অবৈধ এবং এর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন