যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে ইসরাইল। ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও এ সমালোচনায় যুক্ত হয়েছে।
শুক্রবার লেবাননের নাবাতিয়েতে ইসরাইলি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, নাবাতিয়েতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল । সরকারি কমপ্লেক্সের কাছে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কার্যালয়েও হামলা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আবাসিক এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে তিন শতাধিক নিহত এবং হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়। এ হামলার কড়া সমালোচনা করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক এক্স পোস্টে ইসরাইলের কড়া সমালোচনা করেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, লেবাননে হামলা নিয়ে গতকাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘লেবাননে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাপানও। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য টোকিও জোর আহ্বান জানায়। এর আগে ইসরাইলের হামলায় জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা নিহত হন। এ হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে জাপান।
মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে আয়ারল্যান্ড। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি বলেন, ‘লেবাননে ইসরাইলের বর্বর হামলায় আমি হতভম্ব। ওই হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।’
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্মত হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তরের জন্য আলোচনার উদ্দেশ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে যাওয়ার জন্য বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পরই গালিবফ এ ঘোষণা দেন।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, আরব লিগের মহাসচিব শুক্রবার লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে এক ফোনালাপে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি লেবাননের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মঙ্গলবার হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
আরব লিগ মহাসচিব পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করার এবং সরকারি বাহিনীর কাছে অস্ত্র সীমিত করার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ইসলামাবাদে পৌঁছালেন মার্কিন প্রতিনিধিরা