আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমার দেশ অনলাইন

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বুধবার হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলের অঙ্গীকার করায় পরিস্থিতি উচ্চঝুঁকির দিকে গড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় এক বছর আগে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবিরল এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলে আসছেন। জানুয়ারি ৩ তারিখে ভেনেজুয়েলায় একটি প্রাণঘাতী মার্কিন অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর—যাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হন—গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ট্রাম্প আরও আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।

ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাসমুসেন নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন। পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে সেটি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে রাসমুসেন বলেন, তিনি “কিছু ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে” চান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে আদৌ ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছে কি না এবং অবস্থান নরম করতে চায় কি না—তা এখনও অনিশ্চিত।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে গ্রিনল্যান্ডের নেতার বক্তব্য—দ্বীপটি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকতে চায়—নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ওটা তাদের সমস্যা।” তিনি আরও যোগ করেন, “লোকটাকে আমি চিনি না, কিন্তু এটা তার জন্য বড় সমস্যা হতে যাচ্ছে।”

গত শুক্রবার ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড চান “তারা চাইুক বা না চাইুক” এবং “সহজ পথে না হলে কঠিন পথেই নেওয়া হবে।” ট্রাম্পের যুক্তি, রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বেড়েছে, তবুও তারা কেউই গ্রিনল্যান্ডের ওপর দাবি করেনি।

বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত হবে কি না, তা জানানো হয়নি। উন্মুক্ত না হলে টেলিভিশনে প্রচারিত কোনো তিক্ত সংঘাতের আশঙ্কা কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পেনি নাস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি বলে—‘যেকোনো মূল্যে আমাদের গ্রিনল্যান্ড চাই’—তাহলে বৈঠক খুবই সংক্ষিপ্ত হতে পারে। তবে সামান্য নমনীয়তা থাকলে ভিন্ন আলোচনা সম্ভব।”

এই আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্টও অংশ নেবেন। গ্রিনল্যান্ড সরকার ও ডেনমার্ক—উভয়ই ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউস বৈঠকের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন বলেন, “একটি বিষয় সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শাসিত হতে চায় না, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।”

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন