আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পরাজিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘খুবই খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটারদের মধ্যে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার আইওয়ায় এক ঝটিকা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য আইওয়ার ক্লাইভে আয়োজিত জনসভায় ৭৯ বছর বয়সি ট্রাম্প বলেন, জনপ্রিয়তার হার কম থাকলেও নভেম্বরে রিপাবলিকানদের অবশ্যই সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই জয়ী হতে হবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে থাকা ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আইওয়াকে ভালোবাসি বলেই এখানে এসেছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়। আমাদের জিততেই হবে।’ তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, রিপাবলিকানরা হেরে গেলে এ পর্যন্ত অর্জিত সব সাফল্য নষ্ট হয়ে যাবে এবং করছাড় ও অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোর বড় অংশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য মিনেসোটায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে দুজনের মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা চলছিল। তবে আইওয়ার ভাষণে ট্রাম্প বিষয়টি এড়িয়ে যান।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালাবেন। তবে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতায় আসার এক বছর পর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ৪০ শতাংশে।
আইওয়ার জনসভায় বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে ট্রাম্প তাদের ‘ভাড়াটে বিদ্রোহী’ ও ‘উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করেন। এমনকি রসিকতার ছলে তিনি সংবিধানের তোয়াক্কা না করে ভবিষ্যতে আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দেন।
অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প এখনো কঠোর অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসন কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে অনেক ভোটার অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি অর্থনীতিতেও তিনি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে জানা গেছে, জানুয়ারিতে মার্কিন ভোক্তাদের আস্থার সূচক ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

