আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হলো মার্কিন বিমানবাহী রণতরি

আমার দেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হলো মার্কিন বিমানবাহী রণতরি

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে বলে সোমবার নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর ফলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সক্ষমতা আরও জোরদার হলো।

বিজ্ঞাপন

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে কঠোর নীতির প্রেক্ষাপটে এই রণতরি ও এর সহগামী যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন, তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সব ধরনের বিকল্প এখনো খোলা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপটি বর্তমানে “আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের” লক্ষ্যে মোতায়েন রয়েছে।

সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের “ইরানের খুব কাছেই একটি শক্তিশালী নৌবহর অবস্থান করছে”। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং একাধিকবার যোগাযোগ করেছে।

এদিকে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা টেলিফোন ব্রিফিংয়ে জানান, ইরান যদি যোগাযোগ করে, তাহলে ওয়াশিংটন আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

ইরানে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। জানুয়ারির শুরুতে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে কঠোর দমন অভিযান চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই দমন-পীড়নে প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় নেতৃত্ব এখনো ক্ষমতায় থাকলেও চলমান সংকটে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিরোধী অনেকের ধারণা, ব্যবস্থাগত পরিবর্তনে বাইরের হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে চলতি মাসের শুরুতে তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, মার্কিন চাপের মুখে তেহরান শতাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান নিজেদের সক্ষমতার ওপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের উপস্থিতির ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরনের সামরিক শক্তি ইরানি জাতির সংকল্প ও প্রতিরোধকে দুর্বল করতে পারবে না।

সূত্র: এএফপি

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...