আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনেও গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্য ছাড়ছে না যুক্তরাষ্ট্র

আমার দেশ অনলাইন

ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনেও গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্য ছাড়ছে না যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত।

গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সামরিক মিশন গঠন হলেও স্বায়ত্তশাসিত ও খনিজসমৃদ্ধ এই ডেনিশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ইউরোপে সেনা মোতায়েন ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে না। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্য থেকেও তিনি সরে আসবেন না।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বুধবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ ইস্যুতে প্রযুক্তিগত আলোচনা চালাতে একটি কর্মী গোষ্ঠী গঠনে সম্মতি হয়েছে।

লিভিট বলেন, প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ অন্তর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসন এই সংলাপ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

এদিকে বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে সবাই একমত হলেও পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মানুষ কোনো পণ্য নয় যে তাদের নিয়ে বাণিজ্য করা যাবে।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহের বিপরীতে দ্বীপটির জনগণ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। দ্বীপটি ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি জোর করে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তাহলে তা ন্যাটোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ প্রসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, সংলাপ ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ। তিনি চলমান আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

এরই মধ্যে বুধবার দুটি ডেনিশ সামরিক পরিবহন বিমান গ্রিনল্যান্ডে অবতরণ করেছে। ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে ডেনমার্কের ‘আর্কটিক এন্ডুরেন্স’ মহড়ার অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকে ব্রিটেন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও সুইডেন সামরিক সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তার মতে, রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় দ্বীপটির কৌশলগত আর্কটিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন