আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

দুর্ভিক্ষের ত্রাণ চুরি থেকে হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য

ওয়াসিম সিদ্দিকী

দুর্ভিক্ষের ত্রাণ চুরি থেকে হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য

সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিতর্কিত চরিত্র, যার জীবনকাহিনি যেন একই সঙ্গে উত্থান, প্রভাব বিস্তার এবং অভিযোগের ভারে নত হওয়ার দীর্ঘ এক অধ্যায়। শেখ মুজিবের শাসনামলে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণবাণিজ্যের অভিযোগ থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর শীর্ষপদ, কূটনৈতিক দায়িত্ব, রাজনীতি এবং শেষ পর্যন্ত মানবপাচার ও হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ—সব মিলিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।

ত্রাণের তেল চুরির মামলা থেকে বাঁচতে রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেওয়া সেই তরুণ কীভাবে দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং সবশেষে হাজার কোটি টাকার মালিক ও সংসদ সদস্য হলেন, সে গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। মানবপাচার, অর্থ আত্মসাৎ এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় গত সোমবার রাতে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের পর বেরিয়ে আসছে তার অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের অংশ।

বিজ্ঞাপন

’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় বিতর্কের সূচনা

১৯৫৪ সালে ফেনীর দাগনভূঞার এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া মাসুদের উত্থানের সিঁড়িটি তৈরি হয়েছিল ধুরন্ধর বুদ্ধিতে। শেখ মুজিবের শাসনামলে ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় মাসুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে একটি অফিসে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন। ২০ বছর বয়সি ধুরন্ধর যুবকের (মাসুদ চৌধুরী) বিরুদ্ধে সে সময় ত্রাণ হিসেবে আসা পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে দুই ট্রাক তেল চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়। ময়মনসিংহে সে তেল পাচার করে রাতারাতি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পকেটে পুরেছিলেন তিনি। এ অভিযোগ থেকে বাঁচতেই তিনি জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেন। সেদিনের সে সাধারণ ক্লার্কই কালক্রমে হয়ে উঠেছিলেন দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রবল প্রতাপশালী।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি সেনাবাহিনীতে দ্রুত পদোন্নতি পেতে থাকেন। সেনাবাহিনীতে থাকাকালে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো শুরু করেন সাঈদ ইস্কান্দারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। আত্মীয়তার সম্পর্ক এবং ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে সেনাসমর্থিত বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম প্রধান কারিগরে পরিণত করে। ২০০৭ সালে তিনি যখন গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান হন, তখন থেকেই তার ‘আসল খেলা’ শুরু।

রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীর শীর্ষপদে

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হলে তার সদস্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় মাসুদ উদ্দিনও সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করেন। ষষ্ঠ জেআরবি থেকে মাসুদের অন্তর্ভুক্তি হয় সেনাবাহিনীতে। প্রচার রয়েছে, জেআরবি অফিসারদের মধ্যে যাদের লেখাপড়া ছিল, যারা চতুর ছিল এবং দৌড়িয়ে আগে এসেছে, তাদের অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকিদের অন্য পদে অর্ন্তভূক্ত করা হয়।

জানা যায়, মাসুদ রক্ষীবাহিনীতে যোগ দিয়ে ভারতে একটি গোয়েন্দা সংস্থার অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিকালে এবং পরবর্তী সময়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি ‘র’-এর স্বার্থ দেখে রাখতেন।

পরে ধীরে ধীরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। ২০০৩ সালে তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের (সাভার) এবং পরবর্তী সময়ে ৩৩তম পদাতিক ডিভিশনের (কুমিল্লা) জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ৫ জুন থেকে ২০০৮ সালের ২ জুন পর্যন্ত তিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার এ উত্থান ঘিরে নানা বিতর্কও রয়েছে। সেনাবাহিনীতে তার পদোন্নতি এবং প্রভাব বিস্তারের পেছনে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

দেশবিরোধী এক-এগারোর পটভূমিতে প্রভাবশালী ভূমিকা

২০০৭ সালে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহম্মেদ ও ফখরুদ্দীনের সরকার; যা ১/১১ সরকার হিসেবে পরিচিত, সে সরকারের অন্যতম কুশীলব হিসেবে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া এবং তার বড় সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কারিগর এ মাসুদ চৌধুরী। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে তারেক রহমানের ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এ মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে।

পাশাপাশি তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তার নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর হেফাজতে দেশের শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছিল। ক্ষমতার সে দাপটকে পুঁজি করে তিনি পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলেও মাসুদ চৌধুরীর সে সুযোগ বহাল রাখেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এবং যৌথবাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাকে অন্যতম কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।

কূটনীতিক থেকে ব্যবসায়ী : লুটপাটের সাম্রাজ্য

২০০৮ সালে মাসুদ চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ছয় বছর ওই দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে আসার পর মাসুদের আসল রূপ প্রকাশ পায় একজন উচ্চাভিলাষী ব্যবসায়ী হিসেবে। রাজধানীর বনানীতে তার ফাইভ স্টার হোটেলের শেয়ার, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে ওঠে। এমনকি নিজের এজেন্সির একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি সেনাবাহিনীর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (টিটিটিআই) মতো কল্যাণমুখী উদ্যোগকেও বাধাগ্রস্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অর্থবিত্তের পাহাড় এতটাই বিশাল, গত এক দশকে তিনি দেশের বাইরেও বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে দাবি করা হয়।

রিক্রুটিং ব্যবসার আড়ালে সিন্ডিকেট

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা। তার প্রতিষ্ঠিত ‘৫এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর মাধ্যমে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফি যেখানে এক লাখ টাকার মধ্যে, সেখানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ছয়-সাত লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন এ মাসুদ চৌধুরী। প্রায় ১০ হাজার কোটা থাকা সত্ত্বেও ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর নামে সিন্ডিকেট তৈরি, মানবপাচার এবং প্রবাসীদের ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত। ভুক্তভোগীদের অনেকেই জমি বিক্রি, গয়না বন্ধক কিংবা ঋণ নিয়ে এ টাকা দেন। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিদেশে যেতে পারেননি- এমনকি তাদের অর্থও ফেরত পাননি।

হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি ও মামলা

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মানবপাচার এবং প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের (এ মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে) অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ‘আফিয়া ওভারসিজ’-এর স্বত্বাধিকারী আলতাব খান বাদী হয়ে ঢাকার পল্টন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা (১১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন টাকা) আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এ মামলায় আওয়ামী লীগের সময়কার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী-কন্যাও আসামি। ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে ৯ হাজার ৩৭২ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং অবৈধভাবে অর্থপাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের আগস্টে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিতে ১১ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলোর অন্যতম আসামিও তিনি। তার বিরুদ্ধে ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে। ফেনী সদর মডেল থানায়ও তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে ফেনীতে ছয়টি এবং ঢাকায় পাঁচটিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনীর তিনটি বিচারাধীন মামলায় পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল। তদন্তকারীরা তার আর্থিক লেনদেন, বিদেশি সংযোগ এবং সিন্ডিকেটের বিস্তার নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

রাজনীতিতে প্রবেশ ও নতুন বিতর্ক

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় হন বিতর্কিত মাসুদ চৌধুরী। জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও বিতর্কমুক্ত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফেনীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলোর অন্যতম আসামি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। অনেকেই তাকে দেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী, ভারতের পা চাটা দালাল হিসেবে ঘৃণাসূচক মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ তার অতীত ভূমিকা এবং বর্তমান অভিযোগের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখার আহ্বান জানাচ্ছেন। নেটিজেনরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন। বিশেষ করে প্রবাসে যেতে গিয়ে প্রতারিত হওয়া মানুষের গল্পগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি আরো বেশি জনদৃষ্টিতে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা আমার দেশকে বলেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কারণে এ তদন্ত সহজ হবে না। তবে সঠিকভাবে তদন্ত সম্পন্ন হলে দেশের মানবপাচার ও অবৈধ রিক্রুটিং ব্যবসার একটি বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরী। দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবেদনে বলা হয়, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সাত হাজার ১২৪ জন কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় দুদক আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, আসামি এ মামলায় জামিন পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন থানার মানব পাচারসংক্রান্ত এক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায় তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত সোমবার মধ্যরাতে ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন