এবারের ঈদযাত্রা প্রথমদিকে বেশ স্বস্তিদায়ক হলেও শেষদিকে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে দেখা গেছে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। পরিসংখ্যান বলছে, সড়ক, রেল ও নৌপথে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা প্রায় দেড় কোটি মানুষের ভোগান্তি, দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা গেলবারের চেয়ে এবার বেড়েছে। সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা স্বস্তির কথা শোনালেও এই খাত নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনগুলো নানা অভিযোগ তুলেছে। সাধারণ যাত্রীদেরও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে সরকারি দল বিএনপি ভোগান্তি না দেখলেও সোচ্চার ছিল বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দল।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় এ পর্যন্ত ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৬ জনের প্রাণহানি এবং ৪২১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে গত সপ্তাহে বিভিন্ন গণপরিবহনে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ১ হাজার ৬২১ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৮ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, ৩১৫ জন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনায় পঙ্গু রোগী রয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, এবার ঈদযাত্রায় ১৫ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত রেলপথে সাতটি দুর্ঘটনায় ৪২ জনের প্রাণহানি এবং ৪৪ জন আহত হয়েছেন। আর নৌপথে সাতটি দুর্ঘটনায় ৫৬ জনের প্রাণহানি এবং ৮৮ জন আহত হয়েছেন। ঈদযাত্রার শুরু থেকে সোমবার পর্যন্ত পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে আসে।
অন্যদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব বলছে, ১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে ২৬২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯২ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ৬০ জনের বেশি। দুর্ঘটনার ধরন গত বছরের চেয়ে এ বছর ঊর্ধ্বমুখী। ঈদযাত্রার এই দুর্ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় হতাহতের তথ্যও যোগ করা হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দূরপাল্লার বাসে ৯০ কোটি টাকা এবং ঢাকার সিটি সার্ভিসের বাসে ১২ কোটিসহ মোট ১০২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয়েছে। সেবার দূরপাল্লার বাসে যাত্রীপ্রতি গড়ে ৩০০ টাকা এবং সিটি সার্ভিসের বাসে যাত্রীপ্রতি গড়ে ৩০ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় হলেও এবার দূরপাল্লার বাসে যাত্রীপ্রতি গড়ে ৩৫০ টাকা এবং সিটি সার্ভিসের বাসে ৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, সরকারের মন্ত্রী যখন পরিবহন মালিকদের অনুকূলে কথা বলেন, তখন সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে তা প্রান্তিক বাস মালিক-চালকের কাছে নৈরাজ্যের বার্তা দেয়। ফলে পরিবহনের চালকরা বেপরোয়া হয়ে ভাড়া নৈরাজ্য করে এবং সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। যার ফলে নতুন জনপ্রিয় একটি গণতান্ত্রিক সরকার নানান সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। বিগত দুই ঈদে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টার কঠোর অবস্থানের কারণে ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক করা গেছে।
তিনি আরো বলেন, বিগত ঈদে উত্তরাঞ্চলের পথে বেশ কয়েকটি সড়ক-সেতু খুলে দেওয়ায় কয়েকটি রুট ওয়ানওয়ে করে দেওয়ার কারণে যানজট ও যাতায়াতের ভোগান্তি কিছুটা কমে এসেছিল। ফলে এই অঞ্চলে যাতায়াতের কিছুটা স্বস্তি মিললেও এবার দুর্ভোগ বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রেলপথে নানামুখী উদ্যোগ-তৎপরতার কারণে বড় কোনো রেল দুর্ঘটনা বা সিডিউল বিপর্যয় ঘটতে পারেনি। বিপরীতে এবার বগুড়ার সান্তাহারের রেল দুর্ঘটনা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে পদুয়াবাজার বিশ্বরোডে বাস-ট্রেন মুখোমুখি সংঘর্ষ এবারের ঈদযাত্রায় এই দুই রেলরুটের যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, গেলবারের ঈদযাত্রার চেয়ে এবার সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি, দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঊর্ধ্বমুখী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত ঈদযাত্রার ব্যবস্থার চেয়ে এবার খারাপ ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে, তাতে এমনটা হতে পারে।
গত বুধবার যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। ১৮ মার্চ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটিবাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। নৌপথের বেশিরভাগ রুটে এমন নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেলেও সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। এতে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিসের বাসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে।
সংগঠনটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার রুটে বাস-মিনিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াতে ৮৭ শতাংশ যাত্রীপ্রতি টিকিটে গড়ে ৩৫০ টাকা হারে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সেই হিসেবে এবারের ঈদে দূরপাল্লার যাত্রীদের ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটিবাসে ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর ৮৭ শতাংশ যাত্রী প্রতি টিকিটে গড়ে ৫০ টাকা হারে বাড়তি দিলে ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। ফলে এবারের ঈদে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা শুধুমাত্র বাস-মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায় হবে।
তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির ওই বিবৃতিকে ওপেন চ্যালেঞ্জ করেন সড়ক পরিবহন, সেতু; রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির ওই তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। সরকারের তথ্যের সঙ্গে সমিতির তথ্য মিলছে না। তারা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এমন বিবৃতি দিয়েছে। ওই দিনও অর্থাৎ বুধবার সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দু-একটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০ থেকে ৩০ টাকা কম নিচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে ঢাকার বাইরে যেতে পারছেন যাত্রীরা। বাসগুলো যথা সময় ছেড়ে যাচ্ছে, কোনো যাত্রীকে হয়রানি করা হচ্ছে না। এবার সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
সোমবার বরিশাল নদীবন্দর এবং ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চসমূহ পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, চলতি ঈদে লঞ্চযাত্রা অতীতের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে। স্মরণকালের মধ্যে এবারই যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে কম দেখা গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্দরে থাকা প্রতিটি লঞ্চ ঘুরে দেখেছি এবং সরকারি ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে কি না তা যাচাই করেছি। পাশাপাশি ১০ শতাংশ ভাড়া কমানোর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তাও পর্যবেক্ষণ করেছি। নির্ধারিত ভাড়া ৩৬৩ টাকা হলেও অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক দিক।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে টানা সাতদিনের সরকারি ছুটি শেষ হয় সোমবার। ফলে ঈদের আগে-পরে এই সময়টায় কর্মজীবীদের মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে। অবশ্য গত ১২ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা শুরু হলে ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগে ঘরমুখো হয়েছেন আবার সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পর তারা রাজধানীমুখী হন।
এবার পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগের বছরগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করে সরকার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঈদযাত্রা স্বস্তির হলেও এবার তা ছিল রীতিমতো অস্বস্তির— এমনটাই বলছেন অনেকে।
তাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সেভাবে করতে পারেননি, অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে আগাম ব্যবস্থা নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দুই উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার একজন বিশেষ সহকারী। এ ছাড়া মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপও নিতে দেখা গেছে তাদের। কিন্তু এবার ঈদযাত্রায় বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে বেশ তৎপর দেখা গেলেও তাদের কথাবার্তায় মালিক-শ্রমিকরা কার্যত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে আশকারা পেয়েছেন। ঈদযাত্রা সামনে রেখে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকের কমতি, দৃশ্যমান সমন্বিত পদক্ষেপের অভাব, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকা এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর ‘ভাড়া কম নেওয়া’, চাঁদাবাজির বদলে ‘সমঝোতা’ তত্ত্বসহ অনেক বক্তব্য দৃশ্যত পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষে গেছে বলে মানুষের মনে হয়েছে। এর বিপরীতে অতিরিক্ত চাপকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করতে দেখা গেছে, যা ছিল কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন। সাতদিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে ফিরতি যাত্রায় ভাড়ার ক্ষেত্রে নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে। বগুড়াসহ একাধিক স্থানে ট্রেন দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। এই চিত্র গেল বছর এমনটা দেখা যায়নি।
সূত্র মতে, সাম্প্রতিক ঈদগুলোর আগে-পরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে করে বাড়ি ফিতে দেখা গেছে। এবার তেল সংকটের কারণে সেই দৃশ্য কমে যাওয়ায় ওই যাত্রীদের চাপ গণপরিবহনে পড়েছে। ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাইক অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা এবার তুলনামূলক কম হয়েছে। তারপরও এই ঈদযাত্রায় বেশকিছু বড় দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনাসহ অনেক দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এতে যাত্রীসেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। অবশ্য এর পেছনে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াও একটি কারণ ছিল।
এদিকে সোমবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ঈদের সময় যাত্রীরা টিকিট কিনতে গিয়ে দেখেছেন অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। যে আশা নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করবে, সেমাই খাবে, তার আনন্দ তো এখানেই মাটি হয়ে গেল।
জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি চলছে উল্লেখ করে জামায়াতে আমির বলেন, মন্ত্রী বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়া হবে। দেশবাসীর প্রশ্ন, লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে তিনি ফেরত টাকা পৌঁছাবেন কীভাবে? এটা দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
এর একদিন আগে রোববার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি দিয়ে সড়ক ও রেলপথে যাতায়াত ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা এবং সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির জন্য তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক রেল ও সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি প্রমাণ করে যে, দেশের পরিবহন খাতে চরম নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দায়ী করে বলেন, তার চরম অবহেলা, অদক্ষতা এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই আজ সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচলের ন্যূনতম নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত।
অন্যদিকে, শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, নতুন সরকারের সড়কমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে ঈদযাত্রায় নাগরিক ভোগান্তি দূর করতে পারেননি। নির্মম দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। সরকার এবং বিশেষ করে মন্ত্রী কথার ফুলঝুরি ও বাগাড়ম্বর না করে সমস্যা যথার্থভাবে চিহ্নিত করবেন এবং কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের এবং তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত রোববার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার ফ্লাইওভারের নিচে রেল ক্রসিংয়ে লক্ষ্মীপুরগামী একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন ঢাকা মেইলের সংঘর্ষ হয়।
ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৩
ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হবিগঞ্জে নিহত চার
হবিগঞ্জে পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছে। রোববার সকালে মাধবপুরে পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে গেলে নারীসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কুলিয়ারচরে দুজন নিহত
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুজন নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার বিকালে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ছয়সুতি বাসস্ট্যান্ড কাঁঠালতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
যশোরে এক পরিবারের তিনজন নিহত
যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বাবা, ছেলে ও নাতি। এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদার (৭০), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং জাকারিয়া জনির চার বছরের মেয়ে সেহেরিশ। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের গাইদঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামে।
নাটোরে সড়কে প্রকৌশলী নিহত
নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাইভেটকারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিয়ের আগের দিন জুলফিকার আলী (২৯) নামে এক প্রকৌশলী নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে গড়মাটি এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুলফিকার আলী জিল্লু পাবনার ঈশ্বরদী থানার নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল হক প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো, কুমিল্লা, ফেনী, চুয়াডাঙ্গা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ), বড়াইগ্রাম (নাটোর) ও শিবচর (নরসিংদী) প্রতিনিধি]
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

