আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনবে ইসি

গাজী শাহনেওয়াজ

সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনবে ইসি
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকারের আওতাধীন সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইন ও আচরণ বিধিমালায় সংশোধন আনবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি রমজানের মধ্যে এই সংশোধনের কাজ শেষ করা হবে। এর জন্য ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে কমিশন। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় তা নির্ধারণ হতে পারে। ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সিটি করপোরেশন আইন ও আচরণ বিধিমালা সংশোধন করে আরো যুগোপযোগী করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। আমার দেশকে তিনি বলেন, একটা অংশগ্রহণমূলক সিটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য কিছু সংস্কার জরুরি। কী ধরনের সংশোধনী আনা হবে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, বিদ্যমান আইনের জটিলতাগুলো কী রয়েছে, সেগুলোকে প্রথমে চিহ্নিত করা এবং এর আলোকে পরিবর্তন আনা হবে। এর জন্য একটা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্যমতে, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের মেয়াদ। এই সিটির প্রথম সভা বসেছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আগামী রোরবারের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। এ উপলক্ষে গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আগামী রোববারের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ ছিল। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার আর সুযোগ নেই। ফলে কমিশন চাইলে তাদের সুবিধাজনক সময়ে এখন এই নির্বাচন করতে পারবে।

এদিকে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয় বিদায়ি অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যে। অর্থাৎ, উত্তর সিটির নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর। আর মেয়াদ তামাদি হয় গত বছরের ২৫ জুন।

একইভাবে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় শুরু হয়েছিল একই বছরের ৪ ডিসেম্বর। মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ১ জুন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে ওই সিটির নির্বাচন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশনও। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তামাদি হওয়া এ দুটি সিটির নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয় ইসিকে চিঠি দিয়েছে। সব মিলিয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে আগামী কোরবানির ঈদের আগে অন্তত ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম— এই তিন সিটির নির্বাচন শেষ করতে হবে।

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে সিটি করপোরেশন রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে শুধু ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটির মেয়াদ তামাদি হয় গত বছরের জুনে। অনুরূপভাবে, চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ তামাদি হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ ইসিকে আপাতত তিনটি সিটির নির্বাচন করতে হবে। তাও কমিশনের সুবিধাজনক সময়ে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় ইসি। এর জন্য রমজান মাসজুড়ে সিটি করপোরেশনের আইন ও আচরণবিধি পর্যালোচনা করতে চায়। সিটির বিধিবিধানে কোথায় সংশোধনী আনা হবে এবং কী সংযোজন-বিয়োজন করা হবে, সেটা একটা কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে আনার চেষ্টা করছে কমিশন।

কমিশন মনে করছে, সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থী ও স্বতন্ত্ররা নির্বাচনের প্রচার চালায়। এর ফলে নির্বাচনি সহিংসতা কম হয়েছে। একইভাবে, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি।

এর মূল কারণ ছিল, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা ইসির কাছে অঙ্গীকারনামা দিয়েছিল। সেটা তারা রক্ষা করেছে। এর সুফল পাওয়ায় ওই বিধান আসন্ন সিটি নির্বাচনের আইন ও বিধিতে সংযোজন করা হতে পারে। এছাড়া স্থানীয় সরকারের জন্য একটা অভিন্ন আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করার চিন্তা রয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটির। যাতে আগামীতে একটা গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের জন্য একটা আইন, উপজেলার জন্য আরেকটি বিধান। অনুরূপভাবে, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পূথক বিধান রয়েছে। ভিন্নতার কারণে প্রার্থীদের অপরাধ একই হলেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অসুবিধায় পড়তে হয় ইসিতে। এবার সেটা নিরসনের চেষ্টা করবে কমিশন।

এদিকে, ঢাকার দুটি ও চসিক সিটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ শাখা ইতোমধ্যে ফাইল ওয়ার্ক শুরু করে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন কমিশন সভা করা হতে পারে। এ সভায় কমিশন আলোচনা করে ঈদুল ফিতরের পর তফসিল ঘোষণা করবে নাকি আগে ঘোষণা হবে তা ঠিক হবে। তবে, তিনটি নির্বাচনই হবে আগামী কোরবানির ঈদের আগে বলে আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

বাকি সিটি নির্বাচনগুলো আগামী বছরের শুরুতে করলেও আইনের ব্যত্যয় হবে না।

ইসির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চসিক সিটির পর নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের বাধ্যবধকতা রয়েছে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত। অনুরূপভাবে, আগামী বছরের ৬ জুলাই কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরপর রংপুর, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২০২৮ সালে। তবে, স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও শূন্য বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের তফসিল রমজানের মধ্যে দেয়ার চিন্তা রয়েছে ইসির।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন