আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাবি পাঠকমেলার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

স্বাধীন খন্দকার

রাবি পাঠকমেলার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আয়োজন করেছে আমার দেশ পাঠকমেলা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পাশাপাশি তাদের কাছে স্বাস্থ্যসেবাকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও নির্বাচনি সচেতনতা’ কর্মসূচি। সীমান্তবর্তী জনপদ দৌলতপুরের কয়েকটি গ্রামে এই উদ্যোগ যেন মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

দৌলতপুর উপজেলা ভারতের সীমান্তঘেঁষা একটি অঞ্চল। এখানে অনেক প্রত্যন্ত গ্রাম রয়েছে, যেখানে এখনো নির্বাচনি প্রক্রিয়া, গণভোট বা ভোটাধিকার বিষয়ে যথাযথ ধারণা সবার কাছে পৌঁছেনি। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিও স্পষ্ট। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাবি পাঠকমেলা সিদ্ধান্ত নেয়—সচেতনতার বার্তার সঙ্গে যুক্ত হবে মানবিক সহায়তার হাত।

বিজ্ঞাপন

ক্যাম্পে বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। গ্রামের নানা বয়সি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। কেউ জানতে পারেন নিজের রক্তের গ্রুপ, কেউবা দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার প্রাথমিক পরামর্শ পান। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা ভোটাধিকার, গণভোটে অংশগ্রহণ এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন—ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি দায়িত্বও।

এই কর্মসূচির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল বাংলাদেশ মেইল ২৪ ডট নিউজ ও প্রজন্ম কথা। দিকনির্দেশনায় সহযোগিতা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ভেড়ামারা উপজেলা শাখা। সম্মিলিত প্রয়াসে আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরো সুসংগঠিত ও কার্যকর।

আয়োজনের প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন আমার দেশ পাঠকমেলা, রাবি শাখার আহ্বায়ক মো. স্বাধীন খন্দকার। তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এটি আমাদের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। হাজারো ভাই-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই নির্বাচন পেয়েছি। তাই গণভোটে অংশ নেওয়া এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া আমাদের কাছে ঈমানি দায়িত্ব।’ তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে দায়িত্ববোধ ও সময়ের প্রতি গভীর সচেতনতা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মৌফিদুল ইসলাম (মৌফি), ওবাইদুর রহমান অর্ণব, আলামিন ইসলাম, শিমুল হোসেইন, রিওন ইসলাম, আবির হাসান নয়ন, নাঈম হোসেন, মো. সঞ্জু খন্দকার, তানভীর ইসলাম, রাহুল হোসেন, ফাহিম ইসলামসহ আরো অনেকে। তারা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, লিফলেট বিতরণ করেন এবং উপজেলার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ক্যাম্পেইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সম্ভাব্য কুষ্টিয়া জেলা কমিটি গঠনের আলোচনা। স্থানীয় আগ্রহী সদস্যরা ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে মতামত দেন এবং মো. স্বাধীন খন্দকারকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে বোঝা যায়, এই উদ্যোগ শুধু এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের অংশ হতে চায়।

গ্রামবাংলার সরল মানুষদের মুখে কৃতজ্ঞতার হাসি, তরুণদের দায়িত্বশীল পদচারণা এবং সীমান্তের নিভৃত জনপদে সচেতনতার বার্তা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে অর্থবহ। অনেকেই ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচনকে ঘিরে যখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন দৌলতপুরের এই উদ্যোগ স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত হয় তখনই, যখন মানুষ সচেতন হয় এবং মানবিকতার চর্চা অব্যাহত থাকে। ভোটের আহ্বানের সঙ্গে যদি যুক্ত হয় সেবার মানসিকতা, তবে সেই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বীজ বপন করে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...