যেই রাষ্ট্রে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিতে সহ-অবস্থান করবে এবং দেশের কোন নাগরিক কোন প্রকার বৈষম্যের শিকার হবে না এমন রাষ্ট্র গড়তে সৎ, যোগ্য, ও দক্ষ নেতৃত্বকে জাতি বেছে নিবে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষকগণ মনে করেন আগামী নির্বাচন জাতির দীর্ঘ কালের ঘুনে ধরা নেতৃত্ব ও দূর্নীতিবাজদের কাছে কুক্ষিগত পুরানো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পরিবর্তনের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ – দেশের সচেতন নাগরিকগণ এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না।
গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফারুক হলে ইউনিভার্সিটি টিচার্স কনসর্টিয়াম (ইউ.টি.সি.) এবং সেন্টার ফর গ্লোবাল থট (ইউ.কে.) কর্তৃক আয়োজিত “ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভাবনা” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষকরা। মতবিনিময় সভার মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার পাঠক মেলা।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শামছুল আলম।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষকগণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মহানবী (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শে শোষণ, জুলুম, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম বলেন, ২৪শের অভ্যুথান বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য সুযোগ এনেছিল কিন্তু যে পরিবর্তন আমরা আশা করেছিলাম তা হয়নি। এখন আমরা একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠ, ও নিরোপেক্ষ নির্বাচন চাই যাতে সৎ, যোগ্য এবং চরিত্রবান প্রার্থীদের মানুষ নির্বাচিত করে ২৪শের অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে - সরকারকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন বলেন. আমরা একটি কল্যাণ রাষ্ট্র চাই যেখানে ভয় ভীতি থাকবে না। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিতকরণ, ধনী-গরীবের বৈষম্য দূরীকরণ, টেকসই উন্নয়ন, সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা থাকা জরুরী। যোগ্যতা, সততা, ইনসাফ, নিষ্ঠাবান লোকদের দেশের দায়িত্ব দিতে হবে। নাগরিকদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার থাকতে হবে – ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ আমরা ভয়ের রাষ্ট্র চাই না।
ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: শহিদুল ইসলাম বলেন: স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর পরেও বাংলাদেশের মানুষেরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অর্থনৈতিক বৈষম্যে ও নেতৃত্ব সংকটের কারণে দেশের নাগরিকেরা তাদের মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব অবশ্যই সম্পদের সুষ্ঠু বন্টনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে।
আমাদের সম্পদ যা আছে তা যেন এই জাতির উন্নয়ন এবং সুনাম সুখ্যাতির জন্য ব্যয় হয় - অন্য কোন রাষ্ট্রের অথবা দেশের কোন নির্দিষ্ট দলের কল্যাণে শুধুমাত্র যেন দেশের সম্পদ ব্যয় না হয়। বাংলাদেশের মানুষের মাথা বিক্রি করে কেউ যেন ক্ষমতায় না থাকতে পারে সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে উইন-উইন সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের কথা উল্ল্যেখ করে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম মর্মাহত কন্ঠে বলেন, আমাদের কী ভাগ্য পরিবর্তন হবে না? ২৪শের অভ্যুত্থানে এতো রক্তপাতের পরেও যে সরকার এসেছে তারপরেও কি আমরা একটি ভালো সুন্দর সমাজ পেয়েছি? এমনকি তিনি এই নির্বাচন সুষ্ঠ হবে কিনা সেই ব্যাপারেও সন্দেহ পোষণ করেন।
তিনি বলেন, এই বিষয়গুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায় আছে – আমাদেরকে সাধারণ মানুষদের সচেতন করতে হবে। আল্লাহ তাদেরকেই আমাদের শাসক বানান যারা দেশের উন্নয়ন করবেন, মানুষদের ভালবাসবেন, এবং যাদের বিদেশে কোন প্রভু থাকবে না।
উক্ত মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), অধ্যাপক ড. মোঃ বেলাল হোসেন (পরিসংখ্যান বিভাগ), ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউছুফ (আরবী বিভাগ), অধ্যাপক ড. গোলাম গাউস আল-কাদেরী (ইংরেজি বিভাগ), ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড কালচার বিভাগ), ড. মেহের আফরোজ লুৎফা (বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ), ড. মোস্তফা মনজুর (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ), অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান (ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ), এবং অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম (ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ) অন্যতম।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

