ফরিদা আখতার

বৈশাখ মাস বাংলাদেশের মানুষের জন্য খুব তাৎপর্যপূর্ণ। শহর এবং গ্রামে দুভাবে পালন করা হয়। শহরে বাংলা নববর্ষ পালনে অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকে, গ্রামে মূলত হালখাতা এবং বৈশাখী মেলা হয়। ইংরেজি নতুন বছরে এমন কিছু হয় না, শুধু ৩১ ডিসেম্বর মানুষের ঘুম হারাম করে পটকাবাজি করা হয়, উচ্চবিত্তদের মধ্যে

এক বছর আগে এই সময়ে দেশের অবস্থা আন্দোলনে উত্তাল ছিল। রাস্তায় বের হলেই দেখা যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের মিছিল, স্লোগান চলছে; এদের মধ্যে নারীদের দেখেছি নানাভাবে। মেয়েরা রাস্তায় মিছিলে স্লোগান দিচ্ছে, কেউ রাস্তায় বসে পোস্টার লিখছে, স্কুলপড়ুয়া মেয়ের মা নিজেও এসেছেন মেয়েকে ঘরে ধরে রাখতে পারছেন না বলে; কেউ বা

দারুণ তার সাহসী ও সংগ্রামী জীবন। আমরা তাকে খালাম্মা ডাকতাম। দীর্ঘদিন তার সঙ্গে আমাদের জানাশোনা। ড. মাহমুদুর রহমান তার একমাত্র সন্তান।

কোনো অস্ত্র ছিল না, কিন্তু ছিল দৃঢ় মনোবল এবং ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। গুলি মেরে ঝাঁজরা করে দিয়েছে হাজারো তরুণ প্রাণ।

ক্যালেন্ডারে আগস্টের ৫ তারিখের পর বাংলাদেশকে আমরা নতুনভাবে দেখছি। জুলাই ও আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনে যে উত্তাল আন্দোলন আমরা দেখেছি, তার ফল অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। তারপর বাংলাদেশ বদলে গেছে।