রাজধানী ঢাকায় বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও সেনাসদস্যদের বর্বর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এসময় কয়েকটি জেলায় জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করা হয়। এর আগে রাত ৯টায় বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বর হামলা চালাল পুলিশ ও সেনাসদস্যরা। এতে দলটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে নুরের অবস্থা গুরুতর। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে রেফার করা হয়েছে।
নুরের ওপর পুলিশ ও সেনাসদস্যদের এই বর্বর হামলার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে সারাদেশ। রাজধানী ঢাকাসহ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। আমার দেশ প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে নিচে প্রতিবেদনগুলো তুলে ধরা হলো-
চট্টগ্রাম: ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে গণঅধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর৷
শুক্রবার রাত দশটায় নগরের দুই নম্বর গেইট এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলটির নেতাকর্মীরা৷ পরে তারা সড়ক অবরোধ করে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন৷ এতে যানজট দেখা দেয়। তবে মধ্যরাত হওয়ায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়নি।
জানা যায়, ঢাকায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা৷ শুক্রবার রাত নয়টায় দ্বিতীয় দফায় জড়ো হলে সেখানে হামলায় ঘটনায় নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন৷ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷
এই ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেইট এলাকায় রাত দশটায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়েছে৷ এতে গণধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে দুই নম্বর গেইটের আশেপাশে প্রদক্ষিণ করেন৷ এসময় তারা নুরের উপর হামলা কেন, জবাই চাই, দিতে হবে, ঢাকায় হামলা কেন, জবাব চাই, দিতে হবে, ঢাকায় হামলা হলে, জবাব দেবে চট্টগ্রাম, আপা গেছে যেই পথে, জাপা যাবে সেই পথেসহ নানাধরণের স্লোগান দিতে থাকে৷ মিছিলে নেতৃত্ব দেন মহানগর গণ অধিকার পরিষদের মহানগরের সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ। পরে তারা রাত সাড়ে এগারোটার দিকে দুই গেইটে সড়ক অবরোধ করে এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় নেতাকর্মীদের হাতে বাঁশের লাঠি দেখা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান করছেন এবং সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে।
গণঅধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি শাহ আলম জানান, আমরা শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিল করছি৷ এরপর আমরা নগরের মূল সড়ক অবরোধ করি৷ বর্তমানে নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে৷ তিনি আরও জানান, ঢাকায় নুরুল হক নুরের উপর জাতীয় পার্টির হামলার প্রতিবাদে আমাদের এই কর্মসূচি। আমরা জানতে চাই নুরুল হক নুরকে বাঁচতে দেওয়া হবে নাকি মেরে ফেলা হবে? যেখানে নির্বাচনের রোড়ম্যাপ ঘোষণা হয়েছে সেখানে একটি দলের প্রধানের উপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা পরিকল্পিত কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।
রংপুর: জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনে নুরসহ গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের মারধরের প্রতিবাদে গভীর রাতে রংপুরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা ছাত্র-জনতা।
শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২ টায় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিপ্লবী ছাত্র জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি পায়রা চত্বর ঘুরে এসে সমাবেশ করে প্রেসক্লাবে। এসময় মিছিলে সেনাবাহিনী ও অন্তবার্তিকালীন সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় তারা।
সমাবেশে বক্তবা অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীর আসল চরিত্র দেশবাসির কাছে স্পস্ট হয়ে উঠেছে। তারা ২৪-এর জুলাই যোদ্ধাদের ওপর লাঠি তুলেছে। ইন্টেরিম সরকার যাদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। তাদের সাথেই বেঈমানি করছে। আবার জুলাই হবে। প্রয়োজনে ইন্টেরিম সরকারের বিরুদ্ধেই জুলাই হবে। এ সময় আইন উপদেষ্টাদের কঠোর সমালোচনা করেন তারা।
ঝিনাইদহ: ঢাকায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের মিছিলে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মশাল মিছিল করেছে জেলা গণঅধিকার পরিষদ। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে মিছিলটি শহীদ মিনার চত্বর হতে বের হয়ে শহর ঘুরে পায়া চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।হামলার খবর ছড়িয়েপড়লে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে।
মিছিলে ঝিনাইদহ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি প্রভাষক শাখাওয়াত হোসেন, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক রিহান হোসেন রায়হান,জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মিশন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৮ ও ২৪-এর কোটা আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলা করে দমিয়ে রাখা যাবে না। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর এসে এই ধরনের হামলা মেনে নেওয়া যায় না।
বক্তারা আরো বলেন, ঢাকায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের দোসর এবং জাতীয় পার্টি মিলে করেছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে গণঅধিকার পরিষদ আবারো রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
নীলফামারী: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলা কেন জবাব চাই? ফ্যাসিস্টের সহযোগী আর এক ফ্যাসিস্ট জাপার বিচার চাই? অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার চাই? বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মশাল মিছিল করেছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি এ কে উদারের নেতৃত্বে ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে একটি মশাল মিছিল দলীয় কার্যালয় হতে থানা গেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে থানা গেটে যায়। থানা গেটে তারা প্রায় আধাঘণ্টা মশাল নিয়ে বিক্ষোভ করে। এসময় তারা ভিপি নুরের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি এ কে উদার, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হোসেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি লাভলু হক, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম।
বক্তারা এ হামলাকে আওয়ামী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ফ্যাসিস্টদের ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলার মাটিতে ফ্যাসিস্টদের কোন ঠাঁই হবে না। নুর ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিব না। ভিপি নুরুল হক নুরের উপর ন্যাক্করজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
পরে কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ আশরাফুল ইসলাম থানা থেকে বের হয়ে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় কোন ষড়যন্ত্রকারীকে ছাড় দেয়া হবে না। যেই হোক না কেন দেশবিরোধী কাজ করলেই আইনের আওতায় নেয়া হবে। তখন তারা বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ করে দলীয় কার্যালয়ে ফিরে যান।
কুষ্টিয়া: রাজধানীর কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের থানা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে এসে শেষ হয়। পরে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন দলটির নেতাকর্মীরা। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সড়কের দুপাশে বিভিন্ন পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ সহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৮ ও ২৪ এর কোটা আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলা করে তাদের কখনো দমিয়ে রাখা যাবে না। গণ অভ্যুত্থানের এক বছর পর এসে এ ধরনের হামলা মেনে নেওয়া হবে না। জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে নুরুল হক নুর, রাশেদ খানসহ নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলা হয়েছে তা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরায় করেছে। এ হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে গণঅধিকার পরিষদ আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
গলাচিপা: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে তার নিজ উপজেলা ও গ্রামের বড়ি চরবিশ্বাসে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা পৌর মঞ্চ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলটি গলাচিপা পৌর এলাকা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলের আগে একটি পৌর মঞ্চের কাছে সংক্ষিপ্ত সমাবাবেশে বক্তব্য রাখেন, গণ অধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা শাখার যুগ্মআহবায়ক সোয়েবুর রহমান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আমির হোসেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব জাকির মুন্সি, পৌর আহ্বায়ক লিটন মাতব্বর, সদস্য সচিব রেজা মাহমুদ, উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাসেল, সদস্য সচিব আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লা প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সেনাবাহিনী ও পুলিশ তার উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে আজকের এ বিক্ষোভ মিছিল।বর্তমান এনজিও সরকার ভিপি নুরের উপর অমানুষিক নির্যাতন করেছে, রক্তাক্ত করেছে এ জন্যই কী আমরা বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন করেছি। আজকে সেই ফেস্টি বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে রয়ে গেছে। বক্তারা আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশে ১৬ বছর নিপীড়িত নিক্ষেপিত ছিলাম। সেখানে ‘গণবন্ধু’ ভিপি নুর ২০১৮ সাল থেকে রাজপথে তার অগ্রহণীয় ভূমিকা ছিল। সেই ভূমিকা দিয়েই তার সেই কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছিল। সেই আওয়ামী সরকারকে সহযোগিতা করেছিল জাতীয় পার্টি। সরকারকে বলবো, এই জাতীয় পার্টির সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। ওদের যদি নিষিদ্ধ করা না হয় তাহলে বাংলাদেশের আপামর জনতা রাজপথে আছে, রাজপথে থাকবে।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ওপর হামলার প্রতিবাদে নুরের নিজ গ্রামের বাড়ি গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে রাতে বিক্ষোভ মিছল হয়।
মেহেরপুর: রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল ইসলাম নূরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মেহেরপুরের গাংনীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে গাংনী রেজাউল চত্বরে নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে মশাল মিছিল বের করেন। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রাইসুল হকের নেতৃত্বে এ মিছিলে অংশ নেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের মেহেরপুর শাখার সভাপতি আলমগীর হোসাইন, মেহেরপুর গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুল ইসলামসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পটুয়াখালী: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরুর ওপর হামলার প্রতিবাদে রাত এগারোটার দিকে পটুয়াখালীর নতুন বাজার কার্যালয় থেকে জেলা গণঅধিকার পরিষদের শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহআলম শিকদারের নেতৃত্বে একটি মশাল মিছিল বের হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সদস্য সচিব শাহআলম শিকদার ,যুগ্ম সদস্য সচিব সাদ্দাম মৃধা, যুগ্ম সদস্য সচিব এম, এ সোহেল রানা, তেজগাঁও কলেজের ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাবের মাহমুদ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, এই বাংলায় জাতীয় পার্টির স্থান হবে না,নুরুল হক নুরুর উপর যারা হামলা চালিয়েছেন তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজশাহী: ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ও রাজশাহীর জাতীয় পার্টির কার্যালয় সামনে প্রতিক্ষণ করেন।
এ সময় তারা জাতীয় পার্টির স্বৈরাচার, প্রশাসন পাহারাদার; আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সে পথে, সেম সেম, ক্যান্টনমেন্ট, আমার ভাইকে মারলো কেন, ক্যান্টনমেন্ট এর জবাব চাই ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এদিকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দরা গনকপাড়াস্থ জাতীয় পার্টি রাজশাহী জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের দরজা, চেয়ার টেবিল ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে রাস্তায় এনে তা আগুন জ্বালিয়ে দেন।
মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঢাকায় জাতীয় পার্টি অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি কালে ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের দোসর' সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গণঅধিকার পরিষদের নেতা ভিপি নূরসহ অসংখ্য নেতা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে যা বর্তমান প্রশাসনের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয় জানিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ সময় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে জানান
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি ১নং যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজু, রাজশাহী মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী মোবাশ্বের আলী, যুগ্ম সমন্বয়কারী সারোয়ারুল হক রবিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ঈশ্বরগঞ্জ: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্য নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ওই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। মিছিলটি ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর করেন নেতা-কর্মীরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জাপার লোকজন বিনা উসকানিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আমাদের নেতা নুরসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক কাঞ্চন আহমেদ, ময়মনসিংহ মহানগর গণঅধিকার পরিষদের প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম, জেলা যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির খান, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আল-আমিন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ প্রমুখ। এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে থাকা সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আাইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শহরের গুমগাছতলা এলাকার পুরাতন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন গণঅধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মী।
এসময় হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ‘আমার ভাই আহত কেন? ইন্টেরিম জবাব চাই’, ‘আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সেই পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
বিক্ষোভে ছাত্র অধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি ইউসুফ বিন নূরি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরেরা পরিকল্পিতভাবে ভিপি নূর ভাইকে মেরেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেই তারা আছে, অনতিবিলম্বে জড়িতদের শাস্তি না হলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
তাৎক্ষণিক এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত থাকা কক্সবাজারের ছাত্র প্রতিনিধি এসএস সাগর, রিয়াদ মণি, শাহাবউদ্দিনসহ অনেককে অংশ নিতে দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ: রাজধানীতে জাতীয় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ শহরে মশাল মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করা হয়।
শুক্রবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মশাল মিছিল বের হয়ে প্রেস ক্লাব মোড় ঘুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ১৫ মিনিট অবরোধ করে রাখে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ বলেন, দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কথা বলতে গিয়ে যে রক্ত দিয়েছেন তার প্রতিদান দেশের মানুষ দিবে। ভিপি নুর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও জনগণের কল্যাণে কথা বলে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন- এই ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই বর্বর হামলায় জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান নেতাকর্মীরা।
মশাল মিছিলে অংশগ্রহণ করেন- জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান, মহানগরের সভাপতি আরিফ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক রাহুল আরফান, যুব অধিকারের আরিয়ান রিপনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
রাত ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়। এ সময় ছাত্রদল ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

