আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা

মাইকে ঘোষণা কারা দিল, কীভাবে মুহূর্তে জড়ো হলো ৫০০ মানুষ

জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম

মাইকে ঘোষণা কারা দিল, কীভাবে মুহূর্তে জড়ো হলো ৫০০ মানুষ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা ও হামলার ঘটনার পর এখন মূল প্রশ্ন—মাইকে ঘোষণা দিল কারা, আর কীভাবে এত অল্প সময়ে ৪০০–৫০০ মানুষ জড়ো হলো? এলাকা ঘিরে নেওয়া যৌথবাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত তিনটি মসজিদ আছে। প্রতিদিনের মতো মাগরিবের আগে–পরে এখানে মাইক ব্যবস্থাপনা চালায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মোয়াজ্জিন ও খতিবরা। তবে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর যে ঘোষণাটি দেওয়া হয়, তা কি মসজিদের মাইক থেকে, নাকি এলাকার আরেকটি সাউন্ড সিস্টেম থেকে—এ নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। কারণ র‍্যাবের দুটি গাড়ি অভিযানে ঢোকার সময় পাশের মাইকে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মাইক থেকে হামলার কথা বলা হয়।

রাত একটার দিকে র‍্যাব–৭–এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও গণমাধ্যম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ আর এম মোজাফফর হোসেন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মাইকে ঘোষণার পর যে ৪০০–৫০০ মানুষ এসে হামলায় অংশ নেয়, তা স্বতঃস্ফূর্ত কিছু নয়—এটা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাবের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, হামলাটা খুব দ্রুত পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম ভেতরে কোনো নিরীহ মানুষ আছে কি না, তাই গুলি করিনি।

আমাদের সদস্যরা আত্মরক্ষায় ন্যূনতম চেষ্টা ছাড়া অস্ত্র ব্যবহার করেনি। হামলাকারীরা আগে থেকেই সমন্বিত ছিল কি না, কারা ঘোষণা দিয়েছে—সবকিছুর তদন্ত চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ মাইকে বাইরে মানুষ ঢুকে পড়ছে, সবাই বের হন, বাড়ি–ঘর বাঁচান জাতীয় শব্দ শোনা যায়। সেই ঘোষণার পর মুহূর্তেই বিভিন্ন গলি থেকে লোকজন ছুটে যায় পাহাড়ের দিকে। অনেকে আবার বলেন, মাইকের শব্দটি ঠিক মসজিদের মতো লাগেনি, বরং কোনো মোবাইল স্পিকারের মতো শোনায়। এমনকি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একই ধরনের শব্দ দুই জায়গা থেকে ভেসে আসে বলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, এই সূত্রগুলোই এখন যাচাই করা হচ্ছে—এটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘোষণা ছিল, নাকি আগে থেকেই রিহার্সেল করা একটি পরিকল্পনার অংশ।

র‍্যাব–৭–এর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, তাদের দল গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ত্রাসীর অবস্থান শনাক্ত করে ১৬ সদস্য নিয়ে এলাকায় ঢোকে। চারজন ভেতরে যেতেই মুহূর্তে ২০–২৫ জন তাদের ঘিরে ফেলে। এরপর মাইক বেজে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও কয়েক শ মানুষ পাহাড়ি পথ ধরে ঘটনাস্থলে নামে। কর্মকর্তা বলেন, আমাদের ওপর হামলাটা ছিল পুরোপুরি সংগঠিত ও পরিকল্পিত। এটা স্বাভাবিক কোনোরকম প্রতিবাদ ছিল না। এত অল্প সময়ে এত লোক জড়ো হওয়া—অন্য কোনো সমন্বয় ছাড়া সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, র‍্যাব ভেতরে গুলিবর্ষণ করেনি শুধুমাত্র এই আশঙ্কায় যে ভেতরে পরিবার আছে কি না নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু হামলাকারীরা যে ধরনের অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসেছিল, তাতে বোঝা যায় তারা প্রস্তুত ছিল। ঘটনার পর আমরা সব অডিও ক্লিপ, মোবাইল ফুটেজ, সিসিটিভি—যা পাওয়া যায়—সব উদ্ধার করছি। ডিজিটাল ফরেনসিক টিম আলাদাভাবে কাজ করছে, বলেন তিনি।

স্থানীয় মসজিদ কমিটির একজন সদস্য বলেন, তাদের মাইক কেউ অপব্যবহার করেনি। তিনি দাবি করেন, ওই সময় মসজিদে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এলাকায় কিছু অসাধু লোক আলাদা মাইক ব্যবহার করে বাড়িঘর রক্ষার নামে মানুষকে উত্তেজিত করতে পারে। আমরা নিজেরাই ঘটনাটিতে বিব্রত, বলেন কমিটির এই সদস্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...