দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠন পুষ্পস্তবক দিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। আমাদের জেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।
উপজেলা প্রতিনিধি, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল আমিন।
শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এমপি নুরুল আমিন পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিরসরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের, মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিন, জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হাসান, জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মিরসরাই উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জাহিদ হোসাইন, মিরসরাই থানা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন, জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ভেড়ামারা সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সরকারি কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের জনসাধারণ পুষ্পস্তবক ও ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় তাঁরা নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় তাঁদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন, ভেড়ামারা থানা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, ভেড়ামারা সরকারি কলেজ, প্রেসক্লাব এর পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় ।
উপজেলা প্রতিনিধি, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
বিনম্র শ্রদ্ধা আর গভীর ভালোবাসায় অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে সাতক্ষীরাবাসী।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদী। শুক্রবার রাত ১০টার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সেখানে সমবেত হতে থাকে।
রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শ্রদ্ধা নিবেদন। প্রথমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার। এরপর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, সাতক্ষীরা পৌরসভা, সদর উপজেলা প্রশাসনসহ একে একে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন মহিলা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল বিশাল মিছিল নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। জাসাসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা কর্মীরাও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি, সড়ক বিভাগ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, জেলা নাগরিক কমিটি, চেম্বার অব কমার্স, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি শ্রদ্ধা জানায়। পাশাপাশি দৈনিক পত্রদূত, প্রথম আলো বন্ধুসভা, জেলা স্কাউটস, সনাক, সুজনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশের চেতনায় শহীদ বেদি আলোকিত করে তোলে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, দিবা নৈশ কলেজ, সিটি কলেজসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরি ও মিছিলে অংশ নেন। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা আর সম্মানে পুস্পঞ্জলী অর্পণ করা হয়। ঘড়ির কাটায় ১২টা ১ মিনিটে পুস্পঞ্জলী অর্পণ করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।
পরে হবিগঞ্জ পৌরসভা, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, জেলা ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুস্পঞ্জলী অর্পণ করেন। আর এতে করে ফুলে ফুলে ভরে যায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।
১৯৫২ সালের এইদিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। তাদের মধ্যে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বার অন্যতম।
২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। তাই দিনটি বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষা ব্যবহারকারীদের জন্য গৌরবোজ্জ্বলের।
উপজেলা প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)
মোংলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে মোংলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। একুশের প্রথম প্রহরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। ভাষা শহীদদের স্মরণে নীরবতা, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রথম প্রহরে শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহীনুর রহমান শাহীন এবং ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন। পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতেই এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
দিবসটি ঘিরে মোংলা-রামপালে কোনো ধরনের নিরাপত্তাশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রেফাতুল ইসলাম।
উপজেলা প্রতিনিধি, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)
অমর একুশে ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কিশোগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। শনিবার একুশের প্রথম প্রহরে পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ চত্বরের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মো.জালাল উদ্দিন। এসময় ইউএনও রূপম দাস, এসিল্যান্ড রিফাত জাহান, ওসি এসএম আরিফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে ভাষা শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও একুশের প্রথম প্রহরে উপজেলা প্রশাসনের পর পাকুন্দিয়া থানা ও পৌর প্রশাসন এবং উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পুলিশ সুপার মোঃ সারওয়ার আলম। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,শহিদ পরিবারের সদস্যরা, জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী, জেলা কারাগার, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব, মানিকগঞ্জ সম্পাদক পরিষদ, মানিকগঞ্জ টেলিভিশন রিপোর্টারস ইউনিটি, সদর উপজেলা প্রশাসন, গণপূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও এর তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

