আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিএনপিকে ভোট দেয়ার আহ্বান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

বিএনপিকে ভোট দেয়ার আহ্বান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বিশ্বাসী এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সেই অধিকারের প্রতিফলন ঘটাতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সাদা দলের লক্ষ্য একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সেই সুযোগকে উন্মুক্ত করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব এমন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকা উচিত, যাদের অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে।

ড. আবদুস সালাম বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে যে জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ফ্যাসিবাদী প্রবণতা, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচন এবং নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চর্চা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি।

একইসঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নামে অসহিষ্ণুতা, নারীবিরোধী মনোভাব ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক রাজনীতির বিরুদ্ধেও সাদা দলের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি গড়ে উঠেছে দুইটি ঐতিহাসিক স্তম্ভের ওপর- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এই দুই চেতনার সম্মিলনেই একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে অধ্যাপক সালাম বলেন, সাদা দল এমন উন্নয়ন দর্শনে বিশ্বাস করে যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকবে। কেবল সাময়িক উন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মুক্তিই তাদের লক্ষ্য।

নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়ায় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন অর্থনৈতিক অনিবার্যতা। এ ক্ষেত্রে যারা নারীদের পূর্ণ মর্যাদায় রাষ্ট্রগঠনে সম্পৃক্ত করবে, সাদা দল তাদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।

জাতীয় স্বার্থ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি হতে হবে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। কোনো দেশি বা বিদেশি শক্তির ইচ্ছা নয়, বরং জনগণের স্বার্থই হবে রাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি। অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা- সব ক্ষেত্রেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিই হওয়া উচিত।

এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, সম্প্রতি বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনার রূপরেখা হিসেবে একটি সুসংগঠিত ৩১ দফা পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘I Have a Plan’ রাজনৈতিক রোডম্যাপ পরিকল্পনাভিত্তিক রাজনীতির একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। এসব কারণে সাদা দলের বিশ্বাস, একমাত্র বিএনপিই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তরুণ প্রজন্মসহ আপামর জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।

জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন থেকে সৃষ্ট সামাজিক অবিশ্বাস ও সংঘাত দূর করা। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার নারী, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার তুলে ধরে, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও বক্তব্য দেন সাদা দলের এই নেতা। তিনি বলেন, ধর্মকে বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি হিসেবে দেখার রাজনৈতিক সক্ষমতা বিএনপির রয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা কেবল সামরিক শক্তির বিষয় নয়; রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ঐক্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিদেশি প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে বিএনপি পরাশক্তির চাপ উপেক্ষা করে স্বাধীন অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে, যা একটি আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ঢাবি সাদা দলের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আলআমিন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ড. আবদুর রশিদসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক নেতারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন