আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জিপিএইচ ইস্পাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে আন্ত:বিভাগীয় কমিটির পরিদর্শন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জিপিএইচ ইস্পাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে আন্ত:বিভাগীয় কমিটির পরিদর্শন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ, পাহাড়ি ছরা ভরাট এবং সরকারি রাস্তা, পানি চলাচলের পথ দখলের অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসনের আন্ত:বিভাগীয় কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুরে কয়েক ঘণ্টা ধরে তদন্ত কমিটি জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা ও আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখে। পাহাড়ি বারোমাসি ছরা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, ছরার গতিপথ পাল্টে দেওয়া, উচ্চ শব্দ উৎপানকারী মেশিন পরিচালনা ও সরকারি জায়গা দখলসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের ওই কমিটি গঠন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত জিপিএইচ ইস্পাত সরকারি রাস্তা ও পানি চলাচলের পথ দখল করে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন চালিয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। এতে কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানেুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। বর্ষা না হলেও একাধিক গ্রাম সারাবছর পানিতে নিমগ্ন থাকে। এছাড়াও সরকারি রাস্তা দখল করে ফেলায় জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকটি উচ্চ শব্দের মেশিন পরিচালনা করে আসছে জিপিএইচ। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয়রা উপজেলা, জেলা প্রশাসনকে একের পর এক অভিযোগ দিয়ে আসলেও কোন সুরাহা হচ্ছিল না। সবশেষ গত বছরের নভেম্বরে গঠিত আন্ত: বিভাগীয় কমিটি। এতে এডিসি রিভিনিউ, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সীতাকুণ্ডের ইউএনও, এসিল্যাণ্ডসহ সাত জনকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটি বুধবার প্রথমবারের মতো জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা ও সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলো সরেজমিনে পরিদর্শ করেছে। এতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত।

স্থানীয়রা জানান, পরিদর্শনকালে গ্রামের ভুক্তভোগী মানুষেরা কমিটিকে ঘিরে অভিযোগ দিতে থাকেন। প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ ‘ছড়া’ ভরাট করে কারখানার সীমানা বৃদ্ধি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন সরকারি রাস্তা দখল, ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা দখল, আশেপাশের পরিবেশ দূষণ করে জিপিএইচ ইস্পাত ওই এলাকার জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে বলে জানায় তারা। বর্ষাকাল না হলেও সেখানের একাধিক গ্রামে বারোমাস ৫০০-৬০০ পরিবার পানিবন্দি থাকে।

সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ছরা ও পানি চলাচলের রাস্তা দখলসহ একাধিক অভিযোরেগ প্রেক্ষিতে তারা সরেজমিনে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেছেন। ছড়া ভরাট এবং রাস্তা দখলের বিষয়গুলো পরিমাপ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, জিপিএইচ ইস্পাতের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয়রা ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিল। তারই প্রেক্ষিতে একটি আন্ত:বিভাগীয় কমিটি গঠন কর হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন