ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ। গড়পয়ারী ও গুপ্তেরগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী খরিয়া নদী পারাপারে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি একটি নড়বড়ে বাঁশের সেতু। বর্তমানে সেতুটির একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগে এ স্থানে খরিয়া নদী পারাপারে খেয়া নৌকা ব্যবহার হতো। পরে যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৫ বছর আগে উভয় পাড়ের জনগণের উদ্যোগে চাঁদা তুলে বাঁশের খুঁটি ও চাউগাছের ফালি দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে এ নড়বড়ে সেতু দিয়েই রিকশা, অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন ও পথচারীরা পারাপার হচ্ছেন। বাঁশ ও চাউগাছের ফালি ব্যবহারের কারণে সেতুটি কিছুদিন পরপরই ভেঙে পড়ে।
গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বছরে কয়েকবার এটি মেরামত করতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। আয়তনের দিক দিয়ে বেশ বড় গুপ্তেরগাঁও গ্রামটি শাকসবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য খুবই প্রসিদ্ধ। কিন্তু স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সেতু না থাকার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, পয়ারী কালীবাড়ি থেকে গুপ্তেরগাঁওগামী রাস্তার উন্নয়ন ও খরিয়া নদীর ওপর ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে। সেতুটির উন্নয়নের জন্য ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ কেটে অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

