থমথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চলছে যৌথবাহিনীর টহল

থমথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চলছে যৌথবাহিনীর টহল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সাথে দুই নম্বর গেট সংলগ্ন জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষের পর এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সোমবার সকাল থেকে টহল অব্যাহত রেখেছে যৌথবাহিনী। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা।

বিজ্ঞাপন

সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট, জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ এলাকা অনেকটাই ফাঁকা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস ও শাটল স্বাভাবিক নিয়মেই চলাচল করছে।

ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, গতকালের পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামীকাল ক্লাস চলবে কি না, এটি শিগগিরই জানানো হবে।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট মাছ বাজারে শাহাবুদ্দিনের বাসায় ভাড়া থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিফা খাতুন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাসায় প্রবেশের শেষ সময়ের আগেই অর্থাৎ রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আসেন। এ সময় তাকে বাসার গেটে ঢুকতে দেয়নি দারোয়ান। এতে দুজনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান নারী শিক্ষার্থীকে মারধর করে।

এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা আসেন ঘটনাস্থলে। এরপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন স্থানীয়রা। পরে শিক্ষার্থীরাও চবির সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে দুপক্ষের শুরু হয় সংঘর্ষে জড়ান। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ গাড়ি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় সংঘর্ষস্থলে।

পরদিন রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় সেনা ও পুলিশ সদস্য কাউকেই দেখা যায়নি। এরপর সাড়ে ৩টার দিকে প্রথমে সেনারা আসেন। পরে পুলিশকে দেখা যায়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একাডেমিক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকরা দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গ্রামের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অলিগলিতে আটকে গেলে তাদের মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় একের পর এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারে। বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।

সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিন শিক্ষার্থী নগরের দুই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ক্যাম্পাসে যৌথবাহিনী টহল দিচ্ছে। ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করছি আরো স্বাভাবিক হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন