রংপুরের কাউনিয়ায় জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ‘ভূতছাড়া আদর্শ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি জেলা প্রশাসনের মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন রাশেদুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি।
জানা গেছে, বিএনপি নেতা জামিনুর রহমান ৫ আগস্ট পরবর্তী একের পর এক নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোপূর্বে ঢুষমারা চরে জমি দখল, কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড মোড়ে দোকান দখল ও বিক্রি, আরিফা ফুড প্রোডাক্টসের মালিককে হুমকির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এদিকে তার এসব অপকর্মে দলীয় ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হলেও দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি পাস না করেই ডিগ্রি পাসের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে ক্ষমতার জোরে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হন জামিনুর। তিনি যে সার্টিফিকেটে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হয়েছেন, সে সার্টিফিকেট মূলত রাশেদুল ইসলাম নামে একজন ব্যক্তির। যার শিক্ষাবর্ষ ১৯৯২-৯৩। অথচ জাল সার্টিফিকেটে ব্যবহার করেছেন ১৯৯৫-৯৬ সালের। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সেনাক্যাম্পে অভিযোগও দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী। দলের নেতাকর্মীরা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হলেও প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এর আগে কাউনিয়া উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ তার অপকর্মের কারণে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হলেও দলের হাইকমান্ড তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
এ বিষয়ে ভূতছাড়া আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, যাচাই-বাছাই করেই সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর রহমান বলেন, সার্টিফিকেট জাল হলে তারা প্রমাণ করুক। আমার সার্টিফিকেট ওপেন ইউনভার্সিটির, তাই তাদের সার্টিফিকেটের সঙ্গে মিল নেই। আমারটাই অরিজিনাল। আমি এখন অসুস্থ। সুস্থ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।
তিনি আরো বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসে আমার কাগজ দেওয়া আছে। এখন ডিজিটাল যুগ সব জায়গায় সার্চ দিলে দেখতে পারবে আমার সার্টিফিকেট জাল না অরিজিনাল। যারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিচ্ছে, তারাই জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তাহের আলী জানান, জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হক। তিনি বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েতুল্লাহ জানান, যাচাই-বাছাই করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

