স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর

স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ

দুইশ বছরের অধিক পুরোনো মুসলিম স্থাপত্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন শেরপুরের ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ। ১৯৯৯ সাল থেকে মসজিদটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে জাতীয় জাদুঘর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে বেশ নাজুক অবস্থায় ছিল মসজিদটি। সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে শেষ হয়েছে মসজিদটির সংস্কার কাজ।

স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন ঐতিহাসিক ‘খানবাড়ী’র মসজিদটি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্দা ইউনিয়নের ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত। শেরপুর জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। কালের আবর্তে এ মসজিদের নাম ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ। এ নামেই মসজিদটির ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। মসজিদের গায়ে যেসব নিদর্শন এখনো পাওয়া যাচ্ছে সে অনুসারে ধারণা করা হয়, বক্সার বিদ্রোহের নেতা হিরোঙ্গি খাঁর সময় মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। আজিমউল্লাহ খান মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিজ্ঞাপন

মসজিদটির দরজার ওপর মূল্যবান কষ্টিপাথরে খোদাই করে আরবি ভাষায় এর প্রতিষ্ঠাকাল উল্লেখ ছিল হিজরি ১২২৮ বা ইংরেজি ১৮০৮ সাল। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ওই কষ্টিপাথরটি চুরি হয়ে যায়। মসজিদটির গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্পসমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এর ভেতরে রয়েছে দুটি সুদৃঢ় খিলান। এক গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি বর্গাকার। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয়দিকই সমান ২৭ ফুট।

মসজিদের মাঝখানে বড় গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় ১২টি মিনার। চার কোনায় রয়েছে চারটি মিনার। মসজিদে দরজা রয়েছে মাত্র একটি। ভেতরে মেহরাব ও দেয়ালে অঙ্কিত রয়েছে নানা কারুকাজ সমৃদ্ধ ফুলদানি ও ফুল। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি চার ফুট পাশ, যা চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথা।

জানা গেছে, তৎকালীন খানবাড়ীর লোকজনসহ কিছু গ্রামবাসী মিলে মসজিদটির জন্য ৫৮ শতক জমি ওয়াকফ করে দেন। এরমধ্যে ৪১ শতক জমি জুড়ে রয়েছে কবরস্থান। এই মসজিদটির নির্মাণকৌশলে গ্রিক ও কোরিনথিয়ান রীতির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

মসজিদটি বাইরে থেকে বিশাল আকৃতির দেখা গেলেও ভেতরটা ততটা প্রশস্ত নয়। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে রয়েছে দুটি জানালা। মসজিদের ভেতরে ইমাম ছাড়া তিনটি কাতারে ১২ জন করে একসঙ্গে ৩৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে মসজিদের বাইরের অংশে আরো প্রায় অর্ধশত মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আকার বা পরিধি যা-ই হোক না কেন ঐতিহাসিক এই মসজিদটিতে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করার সময় মনে হয় ২০০ বছর পেছনে চলে গেছি। নিজের মধ্যে এক অদ্ভুত অনুভূতির সঞ্চার হয়। নিজে উপস্থিত হয়ে নামাজ না পড়লে কেউ এটি বিশ্বাস বা অনুভব করতে সক্ষম হবে না।

মসজিদের খতিবের দায়িত্বে থাকা মুফতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্রমণপিপাসু এবং মুসল্লিরা মসজিদটি দেখতে আসেন। তারা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। এই মসজিদটি আমাদের অঞ্চলের একটি সম্পদ। ঐতিহ্যবাহী ‘খানবাড়ী’ জামে মসজিদ সংরক্ষণ ও এর সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য সরকারের সহযোগিতা আশা করছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন