আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

এইচএসসি পড়া ছেলে পরামর্শক, চাকরি করে সপ্তম শ্রেণির মেয়ে

জামায়াত প্রার্থীর হলফনামায় বিস্ময়কর তথ্য!

জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম

জামায়াত প্রার্থীর হলফনামায় বিস্ময়কর তথ্য!

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমের হলফনামায় বেশকিছু তথ্য বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। বিশেষ করে তার তিন সন্তান, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তিনজনই শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাদের নামে বার্ষিক প্রায় ৫ লাখ টাকার আয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও জন্ম দিয়েছে প্রশ্ন।

হলফনামা অনুযায়ী, প্রার্থীর বড় ছেলে ইফতেখার উদ্দিন দিহান একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন। দ্বিতীয় ছেলে ইন্তেখার আলম দিলান এইচএসসি শিক্ষার্থী। বয়সে তরুণ, পুরোপুরি পড়ালেখায় মনোযোগী থাকার কথা। আর ছোট মেয়ে সুবাইতা বুশরা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের তিনজনের বয়স, দায়িত্ববোধ ও অবস্থান বিবেচনায় তাদের আয়ের উল্লেখ সাধারণত দেখা যায় না। কিন্তু শফিউল আলমের জমা দেওয়া নথিতে এ তিনজনেরই নিয়মিত আয় দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হলফনামায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী তিনজনই ব্যবসা করেন। তাদের নামে শেয়ার রয়েছে। এমনকি তারা তিনজনই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত। একজন শিক্ষকতা করেন, একজন আইন পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন, আরেকজন চাকরিজীবী হিসেবে আয় দেখিয়েছেন। এসব উৎস থেকে তারা বার্ষিক মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেন-এমন হিসাবও যুক্ত করা হয়েছে।

এই তথ্যগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় ভোটাররা প্রশ্ন তুলেছেন-একজন এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষকতা বা আইন পরামর্শক হওয়া কীভাবে সম্ভব? সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী কীভাবে চাকরির মতো পেশায় যুক্ত থাকতে পারেন? তাদের নামে থাকা শেয়ার বা ব্যবসার প্রকৃত উৎস কী? রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-শিক্ষার্থী সন্তানদের নামে ব্যবসা ও পেশার তথ্য যুক্ত করে কি প্রার্থী প্রকৃত সম্পদের একটি অংশ ‘বণ্টন’ করে দেখাচ্ছেন?

অন্যদিকে, প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমের নিজের আয়–সম্পদের তথ্যও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ১৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নগদ অর্থ রয়েছে ২৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ১ কোটি ৭ লাখ টাকার ওপরে। তুলনামূলক কম আয়, অথচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ টাকা ও অন্যান্য সম্পদের উৎস নিয়েও আলোচনা চলছে।

তিন সন্তানের আয়ের উৎস, বয়সের সঙ্গে পেশাগত পরিচয়ের অমিল এবং আয়–সম্পদের সামগ্রিক কাঠামো এখন চট্টগ্রাম–১১ আসনের নির্বাচনি মাঠে আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠছে প্রার্থীর প্রকৃত সম্পদ কি তার সন্তানদের নামে দেখানো হয়েছে, নাকি এই আয়ের হিসাব কেবলমাত্র কাগুজে?

এ বিষয়ে জানতে জামায়াত প্রার্থীর হলফনামায় উল্লেখ্য দুটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন