আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশাল কর্মযজ্ঞ

আহসান কবীর, যশোর

শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশাল কর্মযজ্ঞ
ফাইল ছবি

শিক্ষার পাশাপাশি মানসম্পন্ন গবেষণা যদি না থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজের পার্থক্য থাকে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে বহু বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলেও গবেষণা কার্যক্রম উল্লেখ করার মতো না।

হাতে গোনা যে ক’টি বিশ্ববিদ্যালয় এর ব্যতিক্রম, তার মধ্যে অন্যতম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। গবেষণা কাজে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এক্ষেত্রে আরো উন্নতি করতে যবিপ্রবি এ বছর আয়োজন করেছে ‘কনফারেন্স কার্নিভাল’। দুই মাসজুড়ে চলমান এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটাই প্রথম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ধারাবাহিক কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হবে, বাড়বে দক্ষতা। দেশ-বিদেশের সর্বাধুনিক জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হবে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লব্ধজ্ঞান বাস্তবে বা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্বন্ধেও তাদের ধারণা বাড়বে।

প্রথমবারের এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয় গত ২৪ মে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, কার্নিভালে ২৭টি বিভাগ ও একটি অনুষদসহ মোট ২৮টি কনফারেন্সের আয়োজন করছে। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ কনফারেন্স শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা হাজির থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছেন। হাতে-কলমে দেখিয়ে দিচ্ছেন গবেষণা, বাস্তব কাজসহ নানা বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ ভার্চুয়ালি, অন্যরা সশরীরে কনফারেন্সে যুক্ত হন। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক ছাড়াও ব্যাংক ও শীর্ষ করপোরেট হাউজের প্রধান নির্বাহীরাও যবিপ্রবির ডাকে সাড়া দিচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত ‘অ্যাডভান্সড অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড ফিশারিজ’, ‘জীবপ্রযুক্তির সমসাময়িক উদ্ভাবন ও গবেষণা’, ‘পাঠ্যক্রম উন্নয়ন’, ‘জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ’, ‘পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রতিবন্ধকতা’, ‘স্বাস্থ্য, আশা ও উচ্চশিক্ষা’, ‘ফিনটেক শিল্পে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উদ্ভাবন’, ‘নেক্সটজেন মাইক্রোবায়োলজি : জেনোমিস অ্যান্ড রিসার্চ ইন দ্য এজ অব এআই’, ‘প্রভেশন অব এভিডেন্টস-বেইজড ফিজিওথেরাপি থ্রু মাল্টিডিসিপ্লিনারি হেলথ কেয়ার ইন বাংলাদেশ’, ‘কম্পিউটেশনাল বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ’, ‘হিসাবরক্ষণ গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়ন’, ‘পুষ্টিগত প্রবণতা ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব’, ‘বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা, শিল্পখাত ও পারস্পরিক সহযোগিতা’, ‘স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সাফল্যে বিজ্ঞানের প্রয়োগ’, ‘বস্ত্রপ্রযুক্তিতে টেকসই উন্নয়ন : ভবিষ্যৎ ধারা ও চ্যালেঞ্জ’, ‘পেট্রোলিয়াম ও খনন খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’, ‘ম্যাথমেটিক্স ইন মডার্ন ওয়ার্ল্ড: ইন্টারডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্লিকেশন’, ‘নতুন যুগে ইংরেজি শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা, বহুমাত্রিক দিক ও সম্ভাবনা’, ‘ভবিষ্যতের পদার্থবিজ্ঞান: পদার্থ, শক্তি, জীবন এবং মহাবিশ্ব অনুসন্ধান’, ‘মলিকিউলার লাইফ সায়েন্সে উদ্ভাবন’ প্রভৃতি বিষয়ের ওপর কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এগুলোকে ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তারা বলছেন, প্রতিটি কনফারেন্সে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত গবেষক, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকছেন।

কনফারেন্সগুলোতে হাজির থাকা বিদেশি ও প্রবাসী গবেষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, ইংল্যান্ডের উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডার ইন সাইবার সিকিউরিটি ড. মো. আরাফাতুর রহমান, ফ্রান্সের আরটয়িস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. উলসিম ইনোউবিল, যুক্তরাষ্ট্রের মেহারি মেডিকেল কলেজের ডেটা সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বিষ্ণু সরকার, ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক অলক কুমার ব্যানার্জি, জাপানের হক্কালডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাতসুফুমি ওকিনো, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বায়োলজিক্যাল আর্থ অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক দেবাশীষ মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ড. হাবিবুর রহমান মোল্লা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, দুই মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ন্যাশনাল কনফারেন্সের আয়োজন বাংলাদেশে এই প্রথম। যবিপ্রবির পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সামান্য ফির মাধ্যমে নিবন্ধন করে কনফারেন্স থেকে জ্ঞানার্জন করতে পারছেন। এখন পর্যন্ত কনফারেন্সে উপস্থিতির হার ৯৫ শতাংশের মতো।

এই সাফল্য অনুপ্রাণিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতি দুই বছর অন্তর কনফারেন্স কার্নিভাল আয়োজন করা হবে। মাঝের বছরটিতে আয়োজন করা হবে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদ আটটি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের আয়োজন করবে।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মজিদ আমার দেশকে বলেন, খুব সামান্য অর্থ ব্যয়ে কনফারেন্সগুলো করা হচ্ছে। আয়োজনের খরচ মেটাতে প্রতি ডিপার্টমেন্টকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে বাজেট দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ডিপার্টমেন্ট স্পন্সর জোগাড় করতে পেরেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য মজিদ বলেন, গবেষণা, বাস্তব কাজ ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির জন্য কোন বিষয়ের ওপর কর্মশালা করা দরকার, তা সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টই ভালো বোঝে। সে কারণে বিষয়বস্তু নির্ধারণ ও কাকে কাকে রিসোর্সপারসন হিসেবে আনতে হবে বা আনা সম্ভব, তা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট।

‘এই ধরনের আয়োজন যবিপ্রবির কার্যক্রমে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে’ মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, অন্যান্য উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ কাজে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

চলতি বছর যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন ২০২৫-এর ইম্প্যাক্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান পেয়েছে যবিপ্রবি। গত ১৮ জুন এই র‌্যাংকিং প্রকাশিত হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন