বরিশালে এ বছর সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি শীত মৌসুমে বরিশালে এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত দেই সপ্তাহ ধরে তীব্র শীত ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল।
কনকনে ঠান্ডায় ব্যাহত হচ্ছে প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না শিশু, মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রিকশা, অটোচালকসহ নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ। সংসারের খরচ জোগানোর তাগিদে শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজার্ভার মিলন হাওলাদার আমার দেশকে জানান, বুধবার ৭ জানুয়ারি বরিশালে চলতি শীত মৌসুমের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা। এদিন সকালে ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে বরিশাল আবহাওয়া অফিস।
এছাড়া গত এক সপ্তাহের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সর্বনিন্ম ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ওই দিন জেলার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগের দিন রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি।
শনিবার ছিল সর্বনিন্ম ১১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার ছিল ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গত বৃহস্পতিবার ছিল ৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের ৭ জানুয়ারি বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, চলতি বছরের এই দিনের তাপমাত্রা গত বছরের এই দিনের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। চলতি সপ্তাহজুড়ে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে গত কয়ের দিনের প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিন্নমূল মানুষকে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কম থাকলেও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ছে।
বিগত দিনে শীত মৌসুমে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যাক্তির পক্ষ থেকে ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণের চিত্র লক্ষ করা গেলেও চলতি বছরের তীব্র শীতের মাঝেও শীতবস্ত্র বিতরণের তেমন খবর মিলছে না। জেলা প্রশাসন ও ইপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চালানো হলেও প্রয়োজনের তুলতায় তা অতি সামান্যই বলে মনে করছে সচেতন মহল।
এদিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালক, অটোচালক, হকার ও দিনমজুররা। কাজ কম থাকায় আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নগরীর কাউনিয়া এলাকার রিকশাচালক আবুল হোসেন বলেন, শীত অনেক দেখেছি। কিন্তু হাড় কাঁপানো শীত আগে কখনো দেখিনি।
তিনি বলেন, তার পরিবারে ছয় সদস্য রয়েছে। স্ত্রীসন্তানদের পেটের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্যই শীতের মধ্যে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তাঘাটে মানুষ কম থাকায় আয় নেই বললেই চলে।
এদিকে শীতের দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতেও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। শয্যাসংকটের কারণে এক বেডে একাধিক রোগী বা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বরিশাল সদর হাসপাতালেও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকেরা জানান, শিশু ও বয়স্করা শীতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, পরিষ্কার পানি পান এবং প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র পরিধানসহ বাইরের হিমেল হাওয়া থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

